ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদে আবারও উসকানিমূলকভাবে অনুপ্রবেশ করেছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গভির। রোববার কড়া পুলিশি পাহারায় তিনি ও তার অনুসারীরা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। অন্যদিকে দখলদার বাহিনীর পৃথক অভিযানে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ৭ জন।
বিজ্ঞাপন
জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ জানিয়েছে, রোববার সকালে ইতামার বেন গভির একদল কট্টরপন্থী ইহুদিকে সাথে নিয়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঢোকেন। এ সময় তিনি কুব্বাতুস-সাখরা বা ডোম অব দ্য রকের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হাততালি দিয়ে গান গাইতে থাকেন এবং ইহুদি ধর্মীয় আচার পালন করেন।
জেরুজালেম গভর্নরেট এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বেন গভিরের এই পদক্ষেপ একটি চরম উসকানিমূলক কাজ। এর মাধ্যমে আল-আকসার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করে সেখানে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ বার আল-আকসায় প্রবেশ করলেন বেন গভির। শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই তিনি তিনবার এই পবিত্র স্থানে অনুপ্রবেশ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
আল-আকসায় উত্তেজনার মধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দক্ষিণ হেবরনের জাহারিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুই যুবক আহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তরের শহর নাবলুসে অভিযান চালানোর সময় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের উরুতে গুলি লাগে এবং ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মাথায় স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন।
জেরুজালেমের উত্তরের শহর আর-রামে অভিযান চালানোর সময় টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড হামলায় আরও ৩ ফিলিস্তিনি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বেথলেহেমের দহিশা শরণার্থী শিবির, হেবরনের বাইত উম্মার, জেরিকোর আকবাত জাবের এবং নাবলুস থেকে একজন নারীসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
বিজ্ঞাপন
এদিকে জেরুজালেমের সিলওয়ান এলাকায় মাহমুদ আল-তবিল নামে এক ফিলিস্তিনিকে তার নিজের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিতে বাধ্য করেছে দখলদার কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলি মিউনিসিপালিটির দাবি, বাড়িটি নির্মাণের বৈধ অনুমতি ছিল না। গত ১০ বছর ধরে ওই বাড়িতে মাহমুদ তার স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। শেষ পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানা এড়াতে নিজ হাতেই নিজের আশ্রয়স্থল ধ্বংস করতে হয় তাকে।
সূত্র : আল জাজিরা
এনটি
