বিজ্ঞাপন

বেলারুশে পারমাণবিক গোলাবারুদ পাঠাল রাশিয়া, বাল্টিকে তুমুল উত্তেজনা

বেলারুশে পারমাণবিক গোলাবারুদ পাঠাল রাশিয়া, বাল্টিকে তুমুল উত্তেজনা

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বাল্টিক অঞ্চলে ড্রোন তৎপরতা নিয়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যদের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝেই বেলারুশে সামরিক ঘাঁটিতে পারমাণবিক গোলাবারুদ পাঠিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনীর সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে মস্কো। বাল্টিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে রাশিয়ার পারমাণবিক পেশী ফুলানো ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গত কয়েক বছরের মাঝে অন্যতম বৃহত্তম পারমাণবিক মহড়া চালাচ্ছে রাশিয়া। এই মহড়ায় দেশটির সামরিক বাহিনীর ৬৪ হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। কোনও আগ্রাসনের মুখে পারমাণবিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও ব্যবহার নিয়ে বাহিনীকে ঝালিয়ে নিতেই এই মহড়া চালানো হচ্ছে।

মহড়ায় রাশিয়া বোরি-শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন, ইল-৩৮ সাবমেরিন-বিধ্বংসী বিমান, কিঞ্জাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান এবং আরএস-২৪ ইয়ার্স আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘‘পারমাণবিক বাহিনীর মহড়ার অংশ হিসেবে বেলারুশ প্রজাতন্ত্রে মোতায়েন করা ক্ষেপণাস্ত্র ব্রিগেডের মাঠপর্যায়ের সংরক্ষণাগারগুলোতে পারমাণবিক গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’’

দেশটির কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী, উত্তর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর, দূরপাল্লার বিমান বাহিনী এবং লেনিনগ্রাদ ও সেন্ট্রাল সামরিক অঞ্চলের ইউনিটগুলো এই যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

রাশিয়া বলেছে, বেলারুশের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট তাদের ইস্কান্দার-এম কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার জন্য বিশেষ গোলাবারুদ গ্রহণ এবং সেগুলো উৎক্ষেপণ যানে লোড করার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

মস্কোর এই ধরনের পারমাণবিক মহড়ায় সাধারণত নকল ওয়ারহেড বা যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, তিরপলে ঢাকা একটি সামরিক ট্রাক নামমাত্র নিরাপত্তা নিয়ে চলাচল করছে। আর অন্য ভিডিওগুলোতে পারমাণবিক সাবমেরিন, বিমান ও যুদ্ধজাহাজের মহড়া দেখা গেছে।

রাশিয়া ও বেলারুশজুড়ে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই মহড়া এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মস্কো বলছে, ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমাদের সঙ্গে এক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে ক্রেমলিন।

পুরো যুদ্ধজুড়েই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিয়েভকে সমর্থনের ক্ষেত্রে পশ্চিমারা যাতে সীমা লঙ্ঘন না করে, সেই সতর্কবার্তা হিসেবে রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তির কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন। তবে ইউক্রেন ও কিছু পশ্চিমা নেতা ক্রেমলিনের এই ধরনের পদক্ষেপকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ‘অস্ত্রের ঝনঝনানি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

• বাল্টিক অঞ্চলে উত্তেজনা তুঙ্গে

বাল্টিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে মস্কো অভিযোগ করে বলেছে, তারা ইউক্রেনকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করে উত্তর রাশিয়ায় হামলা চালানোর অনুমতি দিচ্ছে। তবে ন্যাটো এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক বাল্টিক দেশগুলো বলেছে, রাশিয়া নিজেই ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলোকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু থেকে দিক পরিবর্তন করিয়ে বাল্টিক দেশগুলোর আকাশসীমার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এদিকে, লিথুয়ানিয়ার শীর্ষ কূটনীতিকের একটি মন্তব্যকে বুধবার ক্রেমলিন ‘পাগলামির শামিল’ বলে সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্টুটিস বুদ্রিস বলেছিলেন, ন্যাটো যে রাশিয়ার ছিটমহল কালিনিনগ্রাদে আঘাত হানতে সক্ষম, তা মস্কোকে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত।

কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলটি বাল্টিক উপকূলে ন্যাটো সদস্য লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ডের মাঝখানে অবস্থিত। প্রায় ১০ লাখ জনসংখ্যার এই অঞ্চল ব্যাপক সামরিকায়িত এবং এটি রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের প্রধান সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: রয়টার্স।

এসএস