বিজ্ঞাপন

উদ্ধার করে আনল পুলিশ

জনরোষ থেকে বাঁচতে খাটের নিচে লুকালেন তৃণমূল নেতা

জনরোষ থেকে বাঁচতে খাটের নিচে লুকালেন তৃণমূল নেতা

সরকারি বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বাড়ি আর দিতে পারেননি। আবার মানুষের টাকাও ফেরত দেননি। এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষ টাকা ফেরত নিতে তার বাড়ি ঘেরাও করেন। সেসব মানুষের ক্ষোভ থেকে বাঁচতে নিজের খাটের নিচে লুকান ওই ব্যক্তি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার সঙ্গে হওয়া এমন ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ‍বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জানিয়েছে, ওই নেতাকে পুলিশ পরবর্তীতে খাটের নিচে থেকে উদ্ধার করেছে।

অভিযুক্ত নেতার নাম শহিদুল মিয়া। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জোরপারকি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মাথাভাঙ্গা ১ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

শহিদুলের বিরুদ্ধে একটি আবাসন প্রকল্পের অধীনে সরকারি বাড়ি বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংগৃহীত অর্থ ‘কাট মানি’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো সুবিধাই দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় গত ২৫ থেকে এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এ সময়ে একদল নারী তাদের টাকা ফেরতের দাবিতে শহিদুলের বাড়িতে প্রথম বিক্ষোভ করে। এরপর বুধবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ সময় আরও বড় একটি দল তার বাড়িতে পুনরায় জড়ো হয়। এতে তিনি বাড়ির মধ্যে আটকে পড়েন।

পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সংঘর্ষ এড়াতে শহিদুল শোয়ার ঘরে গিয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে নিকটবর্তী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে খাটের নিচে থেকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে সেখান থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাসিন্দাদের দাবি, শহিদুল বিভিন্ন জনের কাছ থেকে পাঁচ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন। যার মোট পরিমাণ আনুমানিক প্রায় ৮ লাখ টাকা। তাদের দাবি, সরকারি আবাসন বরাদ্দের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে এই টাকা নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এর বদলে তারা সেই সুবিধা পাননি।

ইন্ডিয়া টুডেকে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, তিনি গরীব পরিবারগুলোর কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই বাড়ি কখনোই দেওয়া হয়নি। আমরা শুধু আমাদের টাকা ফেরত চাই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারের পর পুলিশ শহিদুলকে মাথাভাঙ্গা থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদাবাজির অভিযোগের তদন্ত চলছে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে মারধরসহ গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের একাধিক অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধ অভিযান চলছে। এরমধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।

এর আগে বুধবার এক নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে কলকাতা পৌরসভার এক কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে গত ১ জুন পূর্ব পুটিয়ারি এলাকার এক নারীর রিজেন্ট পার্ক থানায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ওই নারীর অভিযোগ, গত মাসে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিশ্বজিৎ তাকে গালাগাল এবং হুমকি দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পৌরসভার কাউন্সিলদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়েছে। চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দুর্নীতির অভিযোগে কেএমসির বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এছাড়া গত ২ জুন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শচীন সিংকে চাঁদাবাজির পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এর একদিন পর ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহেশ কুমার শর্মাকেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

এমটিআই