ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ‘ফ্লোরিশ স্টে’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহতের ঘটনায় মালিক লাভকেশ বাজাজের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও আধার কার্ডসহ জাল ভারতীয় নথি সংগ্রহ করে রাজধানীতে অবৈধভাবে থাকতে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।
৬০ বছর বয়সী বাজাজকে ২০২৫ সালে দিল্লি পুলিশ প্রথম গ্রেপ্তার করেছিল। ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি এক কথিত বাংলাদেশি পরিবারের জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে মধ্য দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকায় বসবাসের খবর পায় পুলিশ। এরপর সেখানে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এক নারী ও তার নাতিকে খুঁজে পায়। এ সময় তাকে সুইটি সরকার ওরফে বিউটি হাওলাদার ওরফে জোহরা খাতুন এবং তার মেয়ে পুষ্পো সরকার ওরফে পুষ্পো হাওলাদার ওরফে পুষ্পো সাইয়াদা আক্তার হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তদন্ত চলাকালে তারা কোনো বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে দিল্লি পুলিশ দুটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, একাধিক আধার কার্ড এবং ব্যাংকিং-সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করে। তবে জব্দ করা তিনটি পাসপোর্টেই একই মহিলার ছিল। এমনকি উদ্ধার করা আধার কার্ডগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও সেগুলোতেও একই ছিল।
অভিযুক্ত সুইটি সারকারের জাল পাসপোর্টে ছত্তরপুরের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, দক্ষিণ দিল্লির সাকেতের বাসিন্দা লাভকেশ বাজাজের ছিকানা এটি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অর্থের বিনিময়ে ওই পরিবারকে পরিচয়পত্র তৈরির জন্য নিজের আবাসিক ঠিকানা ব্যবহার করতে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
পুলিশ এ ঘটনায় লাভকেশ বাজাজ, সুইটি সরকার ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ সময় বাজাজকে তিহার জেলে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে বিষয়টি আলাদতে বিচারাধীন রয়েছে।
সম্প্রতি দিল্লির মালভিয়া নগরে লাভকেশ বাজাজের বিএনবি ‘ফ্লোরিশ স্টে’ হোটেলে আগুন লেগে ১২ বিদেশি নাগরিকসহ ২১ জন নিহত হওয়ার পর তিনি আবারও পুলিশের নজরে এসেছেন। পাঁচতলা ভবনটিতে আগুন লাগার কয়েক ঘণ্টা পরেই বাজাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
বুধবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের বাজাজ স্বীকার করেন, আগুনে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সাহায্য করার জন্য না থেমে তিনি তার জ্বলন্ত হোটেলের পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যান। তিনি ভয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য পথে চলে যান।
এনডিটিভিকে সূত্র জানিয়েছে, শর্ট সার্কিটের কারণে হোটেলে আগুন লেগেছিল। এরপর এটি পুরো ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। অগ্নি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছাড়াই হোটেলটি পরিচালনা করা হচ্ছিল।
এনডিটিভির হাতে আসা নিবন্ধন সনদে দেখা গেছে, ‘ফ্লোরিশ স্টে’ হোটেলটিকে বিএনবি ক্যাটাগরির অধীনে কেবল ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হোটেলটিতে বেসমেন্টের কয়েকটি কক্ষসহ মোট ২৫টি কক্ষ চালু ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল। ফলে অতিথিরা ঠিকমতো বের হয়ে আসতে পারেননি। এছাড়াও, জানালাগুলো বন্ধ এবং প্রধান দরজাটি সেন্সর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল।
সূত্র: এনডিটিভি
এমটিআই
