রোমানিয়ার কনস্টান্টা বন্দরে একটি সামুদ্রিক ড্রোন বিস্ফোরিত হয়েছে। এ সময় আশপাশে আরও কয়েকটি ড্রোনের সন্ধান মিলেছে। এতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার (০৫ জুন) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ড্রোনটি নিজে থেকেই বিস্ফোরিত হয়।
ড্রোনটি একটি তেল টার্মিনালের কাছে বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রায়েদ আরাফাত বলেন, বিস্ফোরণের পর বন্দরটি খালি করে দেওয়া হয়েছে এবং কৃষ্ণ সাগর উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এ সময় জাহাজের খোঁজে হেলিকপ্টার দিয়ে এলাকাটিতে মহড়া চালানো হয়েছে।
ইউক্রেন জানিয়েছে, শুক্রবার বিস্ফোরিত হওয়া ড্রোনটি তাদের একটি সামুদ্রিক ড্রোন। এটি রাশিয়া ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে প্রতিহত করে। যা পরবর্তীতে রোমানিয়ার বন্দরে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়।
ইউক্রেনের নৌবাহিনী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, কৃষ্ণ সাগরে অভিযানকালে আমাদের একটি ড্রোন শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার প্রভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোমানিয়ার উপকূলের কাছে এসে পড়েছে।
ফেসবুকে এক পোস্পে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর ড্যান বলেন, চলতি সপ্তাহে রোমানিয়ার সমুদ্র উপকূলে দ্বিতীয় এটি দ্বিতীয় ঘটনা। চলতি সপ্তাহের শুরুতে রোমানিয়ার নৌবাহিনী কৃষ্ণ সাগরের তীরে ভেসে আসা একটি রুশ মাইন নিষ্ক্রিয় করেছিল।
গত সপ্তাহে রোমানিয়ার একটি ভবনে একটি রুশ ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছিল। এসব ঘটনায় যুদ্ধটি ক্রমশ এই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, সামুদ্রিক ড্রোনটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ফলাফল। এটি আমাদের পূর্ব সীমান্তের দেশগুলোর জন্য ক্রমশ একটি সরাসরি হুমকি হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনের সাথে রোমানিয়ার ৬৫০ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত রয়েছে। দেশটি চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের মধ্যে অসংখ্যবার তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের তথ্য জানিয়েছে। এসব ঘটনায় তারা সাধারণত রাশিয়াকে দায়ী করে। আর এগুলো আটকাতে ন্যাটোর কাছে সাহায্যও চেয়েছে দেশটি।
সূত্র: আলজাজিরা
এমটিআই/এমবি
