বিজ্ঞাপন

৭ বছর পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, লালগালিচা সংবর্ধনা কিমের

৭ বছর পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, লালগালিচা সংবর্ধনা কিমের

দীর্ঘ সাত বছর পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়া সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছেছেন তিনি। এ সময় তাকে স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং জন উন।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রোডং সিনমুনে প্রকাশিত এক লেখায় জিনপিং বলেছেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক নবসূচনা হয়েছে। কিমের সঙ্গে তার এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এটি চলতি বছরে শি জিনপিংয়ের প্রথম বিদেশ সফর।

শি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে দুই দেশই সকল ক্ষেত্রে পারস্পরিক আদান-প্রদান ও সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। আমাদের আধিপত্যবাদ, কর্তৃত্ববাদ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে এমন সামরিক উত্থানের সব ধরনের চেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছানোর পর কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সোল জু জিনপিংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন। এসময় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং শিশুরা ফুলের তোড়া উপহার দিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর কিম ইল সুং স্কয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সামরিক ব্যান্ড দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেছে। এই চত্বরটি অতীতে সামরিক কুচকাওয়াজ ও রাষ্ট্রীয় উদ্‌যাপনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি বলেছে, অনুষ্ঠানে ২১ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নেতাদের বিশালাকৃতির প্রতিকৃতির নিচে জড়ো হয়ে জনতা নানা স্লোগান এবং রঙিন বেলুন উড়িয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।

দুই দিনের এই সফরে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন শি জিনপিং। সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ায় এটি প্রথম সফর করছেন তিনি। এ সময়ের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্কের ফলে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি বেশ শক্তিশালী হয়েছে।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স ডেমোক্রেসিসের সিনিয়র ফেলো ক্রেইগ সিংলেটন বলেন, শি-কিম শীর্ষ বৈঠক আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে বেইজিং এখনো পিয়ংইয়ংকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে।

তিনি বলেন, চীন, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও ইরানের একটি অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে আনা এবং তার মিত্রজোটগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

সূত্র: রয়টার্স

এমবি/এসএস