পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন লেবাননের সেনাপ্রধান রডলফ হেইকাল। বৈঠকে তারা পরস্পর সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকমাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করে আসছে পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যকার যেকোনো চুক্তিতে লেবাননের অন্তর্ভূক্তির দাবি জানিয়ে আসছে তেহরান। দেশটির সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।
লেবাননের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, এ সফর বৃহত্তর শান্তি আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
পাকিস্তানের আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই সেনাপ্রধান পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক জোরদার নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে হেইকলকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে জোর দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খা
মেনিকে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের ‘বিশেষ বার্তা’ পৌঁছে দিতে দেশটি সফরে করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চুক্তির মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওই সফরে গেছেন তিনি।
এদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে চুক্তির আলোচনা বন্ধ হয়নিবলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটন বার্তা বিনিময় করছে। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নাজুক এক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর রোববার রাতে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। লেবাননে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলার প্রতিশোধে ইসরায়েলে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
ইরানি হামলার জবাবে ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালায়। চিরবৈরী দুই শত্রুপক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে অবশ্য উভয় পক্ষই আর হামলা না চালানোর কথা জানিয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
এমবি
