ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন। স্বাক্ষর জালিয়াতির একটি মামলার তদন্তে তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে তার বাসভবনে পৌঁছেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (০৯ জুন) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ৭১ বছর বয়সী তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী ইতোমধ্যেই দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং প্রকাশ্য কোন্দলের মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সিআইডি একটি অভিযোগের তদন্তে নেমেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যম বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন মমতা। এতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনয়নে সমর্থন দেওয়া হয়েচে।
স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে গত ২৭ মে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্য ঋতাব্রত ব্যানার্জী এবং সন্দীপন সাহা জানান, দলের ৬ মে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। যদিও দলের পক্ষ থেকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এমন দাবি করা হয়েছে। বৈঠকের কার্যবিবরণী বইয়ে তারা ১৯ মে স্বাক্ষর করেছিলেন, ৬ মে তারা কোনো স্বাক্ষর করেননি।
দুই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, ৬ মের প্রস্তাবটি পরে তৈরি ও জাল করা হয়েছে। তাদের দাবি, মোট ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে ১৪টি স্বাক্ষর বড় হাতের অক্ষরে লেখা ছিল। এটি সন্দেহজনক ঘটনা।
এরপর দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস ওই দুই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে তাদের নাম ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বর্তমানে সিআইডির তিনটি পৃথক দল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এরমধ্যে একটি দল মমতার বাসভবনে তল্লাশি চালাচ্ছে। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন। আরেকটি দল তার ভাতিজা ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। এছাড়া তৃতীয় দলটি অভিষেকের বাসভবসে তল্লাশি করছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমবি
