ইন্দোনেশিয়ায় চার সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো মানবাধিকারকর্মীর ওপর অ্যাসিড হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির একটি সামরিক আদালত এ রায় দিয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিচারক জানান, চার কর্মকর্তাকে যথাক্রমে তিন বছর, আড়াই বছর, দুই বছর এবং দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত ওই চার কর্মকর্তা সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (বিএআইএস) সদস্য। তাদেরকে কমিশন ফর মিসিং পারসন্স অ্যান্ড ভিকটিমস অফ ভায়োলেন্সের (কন্ট্রাস) উপ-সমন্বয়ক আন্দ্রি ইউনুসের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। গত এপ্রিলে রাজধানী জাকার্তায় তাদের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
গত মার্চে রাজধানীতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় আন্দ্রির ওপর হামলা হয়। অপর একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তার ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করলে তিনি এক চোখ অন্ধ হয়ে যান। এছাড়া তার মুখ ও শরীরের ২০ শতাংশেরও বেশি অংশ দগ্ধ হয়।
আল জাজিরা বলেছে, হামলা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের মুখে সামরিক সংস্থাটির প্রধান পদত্যাগ করেন। কিন্তু এর কোনো কারণ জানানো হয়নি।
জাতিসংঘ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছন। আর জাতিসংঘের বিশেষ দূত মেরি ললার এটিকে ‘ভয়াবহ’ বলেছেন।
আন্দ্রি ইন্দোনেশিয়ার সরকার এবং বেসামরিক প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার কট্টর সমালোচক ছিলেন।
ইন্দোনেশিয়ায় মানবাধিকার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাস্তির তেমন নজির নেই। এজন্য আন্দ্রি ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার আশঙ্কায় বেসামরিক আদালতে করার অনুরোধ করেছিলেন। এছাড়া স্বাস্থ্যগত কারণ এবং আদালতের প্রতি অনাস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি কোনো শুনানিতেই উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানান।
সূত্র: আল জাজিরা
এমবি
