ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। দেশটিতে গত তিন বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য প্রকাশের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের (বিএলএস) পরিসংখ্যান বলছে, মে মাসে মূল্যস্ফীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এপ্রিল মাসে এই হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমি এটা ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো দুর্দান্ত। জানেন আমি আসলে কী ভালোবাসি? আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমে আসবে।
পরে ট্রাম্প অবশ্য তার বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি আসলে বলতে চেয়েছিলেন, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বাড়েনি।
ট্রাম্প বলেন, আমি মূল্যস্ফীতির এই সংখ্যাগুলো পছন্দ করি কারণ আমি যা বলেছি তাই পরিসংখ্যনে উঠে এসেছে। আমরা যুদ্ধের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম রয়েছে। যুদ্ধ শেষ হলে মূল্যস্ফীতি আগের চেয়ে অনেক কমে যাবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলের সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছিল। বর্তমানে সেই তুলনায় এ হার অনেক কম রয়েছে। তবুও মূল্যস্ফীতি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যয় কমাতে সুদের হার বাড়তে পারে। গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সামগ্রিক জ্বালানির দাম আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য বলছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত পেট্রোলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১৫ ডলারে পৌঁছেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের ইরানে হামলা সময় এ দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার ছিল।
বিএলএস বলছে, বিমান ভাড়া, ব্যক্তিগত ও চিকিৎসা সেবা, বিনোদন এবং যোগাযোগ খরচও বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
এমবি
