যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত স্থায়ীভাবে নিরসনের জন্য নতুন একটি শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং উভয় দেশ প্রস্তাবিত সেই চুক্তির খসড়া নিয়ে একমত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই দাবি করেছেন।
এ ইস্যুতে কোনো গুজব কিংবা অপতথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ বলেন, “পাকিস্তানের চলমান নিবিড় মধ্যস্থতার সত্ত্বেও যারা (যুক্তরাষ্ট্র-ইরান) শান্তিচুক্তির ব্যাপারটিকে বানচাল করতে চায়— তারা অবিরাম অপতথ্য প্রচার করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা পুরোপুরি অবগত। এই হট্টগোলকে একপাশে রেখে আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে শান্তিচুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়ায় আমরা পৌঁছাতে পেরেছি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান— উভয়েই সেই খসড়ায় সম্মতি দিয়েছে। পাকিস্তান এখন পরবর্তী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করার জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। শান্তি এখনকার মতো এত কাছাকাছি আগে কখনো আসেনি।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরগচিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। শুক্রবার পৃথক এক এক্সবার্তায় সৈয়দ আরাগচি বলেছেন, “ইসরামাবাদ সমঝোতা স্মারক এর আগে কখনও এত কাছাকাছি আসেনি। গণমাধ্যমের উচিত এটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো প্রকার জল্পনা-কল্পনা ছড়ানো থেকে বিরত থাকা।”
“আমাদের দায়িত্ব এবং স্বচ্ছ কর্মপন্থা অনুযায়ী, যথাসময়ে এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষেপ প্রকাশ করা হবে।”
কী আছে প্রস্তাবিত চুক্তিতে
প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির খসড়া এখনও প্রকাশিত না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি সূত্রের বরাতে খসড়ায় উল্লিখিত কয়েকটি শর্ত সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে রয়টার্স। যেমন খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে তেহরান যদি হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং মাইন অপসারণ করে— তাহলে ইরানের ফ্রোজেন অর্থ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার তেহরানকে প্রদান করবে ওয়াশিংটন। এছাড়া ইরানের তেল রপ্তানির ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোও একে একে প্রত্যাহার করা হবে।
আরও বলা হয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ৬০ দিন পাবেন ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা। এছাড়া তেহরানকে যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপের দাবি থেকেও সরে আসবে ওয়াশিংটন।
ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে যা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ। যদি এই সমৃদ্ধির মান দেশটি ৯০ শতাংশে উন্নীত করে— তাহলে অনায়েসে এটি দিয়ে পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব। ওয়াশিংটন এর আগে বলেছিল, ইরানকে অবশ্যই এ ইউরেনিয়ামের ওপর দাবি ছেড়ে দিতে হবে এবং ওয়াশিংটকে তা প্রদান করতে হবে।
নতুন চুক্তিতে ইউরেনিয়ামের ব্যাপারে কোনো উল্লেখ নেই; তবে যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম ধ্বংস করা হবে এবং তাদের পরমাণু প্রকল্পও বাতিল করতে হবে। যদি ইরান তা করে, কেবল তাহলেই মিলবে ফ্রোজেন অর্থ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি।
রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা বলেন, “প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিটি হবে। পুরোপুরি পারফরম্যান্সভিত্তিক; অর্থাৎ ইরান যদি হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে, পরমাণু প্রকল্প বাতিল না করে এবং ইউরেনিয়াম ধ্বংস না করে— তাহলে ফ্রোজেন অর্থ থেকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, ক্ষতিপূরণ মিলবে না এবং নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হবে না। ইরানকে এসব শর্ত মেনেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এক এক্সবার্তায় বলেছেন, “প্রথম কথা হলো, শুধুমাত্র বৈঠকে উপস্থিত থাকা এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই ইরান নগত অর্থ কিংবা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাবে— এমনটি ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।”
তবে ইরানের একটি দাবি ছিল যে ইসরায়েল যেন লেবানেনে হামলা বন্ধ করে। প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির খসড়ায় এখনও এ প্রসঙ্গে কোনো কিছু উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
সূত্র : রয়টার্স, জিও নিউজ
এসএমডব্লিউ
