মুসলিমদের পবিত্র ধর্মীয় প্রথা আশুরা পালন বিষয়ক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে কুয়েতে। গতকাল শুক্রবার দেশটির সরকারি প্রতিনিধি এবং শিয়া প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে এসব বিধিনিষেধ।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে, আশুরা উপলক্ষে কুয়েতের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোর বাইরে আশুরা সংক্রান্ত কোনো পতাকা ওড়ানো যাবে না, ব্যানারও টানানো যাবে না। আশুরায় কুয়েতের শিয়া কমিউনিটি গণখাবার বা ভোজের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে দেশি-বিদেশি অনেক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান শিয়া কমিউনিটিকে চাঁদাও প্রদান করে।
শুক্রবারের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে, আশুরার ভোজের রান্না কেবল শিয়া কমিউনিটির স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে করা যাবে এবং কুয়েতের সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক মন্ত্রণালয় যেসব চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছে— শুধু সেসব চ্যানেলের মাধ্যেই চাঁদার অর্থ আদান-প্রদান করা যাবে।
এছাড়া আশুরায় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে কুয়েতের শিয়া অধুষিত এলাকাগুলোতে সাদা পোশাকে নজরদারি চালাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে শিয়া প্রতিনিধিদের সহযোগিতা চাওয়া হলে শিয়া প্রতিনিধিরা তাতে সম্মত হন।
শুক্রবারের বৈঠকে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন কুয়েতের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান জেনারেল হামাদ আহমেদ আল মুনাইফি। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।
মহররমের ১০ তারিখ বা আশুরা ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র শোকের দিবস। আজ থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে ইরাকের ঐতিহাসিক কারবালা ময়দানে এজিদ ইবনে মুআবিয়ার সৈন্যদলের হাতে নিহত হয়েছিলেন ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহম্মদ (স.) এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.)।
বিশ্বজুড়ে শিয়াপন্থি মুসলিমরা বেশ গুরুত্ব ও আড়ম্বরের সঙ্গে এই দিনটি পালন করা হয়।
সূত্র : গালফ নিউজ
এসএমডব্লিউ
