বিজ্ঞাপন

একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ইবোলা আক্রান্ত দেখল কঙ্গো

একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ইবোলা আক্রান্ত দেখল কঙ্গো

প্রাণঘাতী রোগ ইবোলায় একদিনে রেকর্ডসংখ্যক আক্রান্ত রোগী দেখল মধ্য আফ্রিকার বৃহত্তম দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডি আর কঙ্গো)। শনিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৭২ জন ইবোলা আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

এটি একটি রেকর্ড। কারণ এর আগে কখনও একদিনে এত সংখ্যক রোগী ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন— এমন কোনো তথ্য নেই। গতকালের পরে আফ্রিকার এই দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৭৮২ জন।

ইবোলা ভাইরাসের বুন্দিবুগিও ধরনের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৫ মে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে কঙ্গোর সরকার।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত যে ৭২ জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৫৬ জনই কঙ্গের ইতুরি প্রদেশের। এই প্রদেশটি বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্র বা এপিসেন্টারে পরিণত হয়েছে।

ইবোলা ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন বা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো—জাইর, সুদান, বুন্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। ২০১৪ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে ‘জাইর’ প্রজাতিটি। তবে কঙ্গো এবং উগান্ডায় বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য ইবোলার যে ভাইরাসটিকে দায়ী করা হয়েছে, সেটি বুন্দিবুগিও প্রজাতির বলে জানা গেছে।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের প্রধান শিকার মানুষ এবং প্রাইমেট গোত্রীয় বিভিন্ন প্রানী যেমন শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাং প্রভৃতি। এটি বাহুবাহিত কোনো রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুঁই বা কাপড় থেকেও এটি সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে, এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার-অনুষ্ঠানের সময় মৃতদেহের সরাসরি সংস্পর্শ থেকেও ছড়াতে পারে ভাইরাসটি।

ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই বাদুড় নিজে ইবোলায় আক্রান্ত হয় না। কেবলমাত্র ভাইরাসটি বহন করে। এছাড়া বনমানুষ, হরিণ ও সজারু এই ভাইরাস বহন করে এবং মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দিতে পারে।

ডি আর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৫ মে’র পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮১ জনের এবং বর্তমানে ইবোলায় আক্রান্ত রোগী আছেন ৭৮২ জন। এছাড়া এই সময়সীমায় ৪০ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলেও জানা গেছে মন্ত্রণালয় সূত্রে।

ইবোলার উপসর্গগুলো হলো—হঠাৎ তীব্র জ্বর এবং তার সঙ্গে প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা-ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি, শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া, এবং শেষ পর্যায়ে নাক, মুখ কিংবা মলদ্বার দিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকেই এসব উপসর্গ দেখা দেওয়া শুরু করে।

বাতাসের মাধ্যমে না ছড়ানোর কারণে ইবোলা এটি অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের তুলনায় কম সংক্রামক; কিন্তু আক্রান্তদের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। রোগের চূড়ান্ত পর্যায়ে নাক-মুখ ও মলদ্বার দিয়ে অব্যাহত রক্তপাতের জেরে মৃত্যু হয় রোগীর। এজন্য ইবোলাকে ‘হেমারোজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণ জ্বরও বলা হয়।

সূত্র : এএফপি, আনাদোলু এজেন্সি

এসএমডব্লিউ

বিজ্ঞাপন