যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে দেশ দুটি স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে। চুক্তির পর ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র তুলে নিয়েছে নৌ-অবরোধ।
তবে এই চুক্তিতে কি কি শর্ত ও ধারা আছে সেটি দেশ দুটি প্রকাশ করেনি। কিন্তু ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এটি ফাঁস করে দিয়েছে। তারা ১২টি শর্তের সবগুলো প্রকাশ করেছে। শর্তগুলো হলো—
১. ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব জায়গায় সব ধরনের বৈরী বা শত্রুতামূলক আচরণ বন্ধ করবে।
২. ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা তা সংগ্রহ না করার ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
৩. ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে ফেলার বিষয়টি সমাধান করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একমত হয়েছে।
৪. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক চাহিদার বিষয়ে আলোচনা করবে।
৫. যতদিন আলোচনা চলবে, ততদিন ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে বর্তমান পরিস্থিতি (স্ট্যাটাস কু) বজায় রাখবে।
৬. চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ তুলে নেবে, নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না এবং এই অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি আর বাড়াবে না।
৭. ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর বিনামূল্যে ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
৮. এই সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়িত হওয়া মাত্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আটকে রাখা ইরানি অর্থ বা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
৯. যদি একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে এবং ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করবে।
১০. যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির মধ্যে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
১১. আলোচনা চলাকালীন ইরান যাতে তেল বিক্রি করতে পারে, সেজন্য ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে তেহরানকে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখবে (বা পাসের ব্যবস্থা করবে)।
১২. নৌ-চলাচল এবং সামুদ্রিক সেবার নিয়মকানুন ঠিক করতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর উপস্থিতিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: চ্যানেল-১২, ইরান ইন্টারন্যাশনাল
এমটিআই
