মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ ঘটনার পরও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ও সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ০ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। দিনের শুরুতে দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমলেও পরে তা ঘুরে দাঁড়ায়। যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের কার্যকারিতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের চুলচেরা বিশ্লেষণের পর বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ৮০ দশমিক ৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবারের পর প্রথমবারের মতো এ তেলের দাম ৮০ ডলার ছাড়িয়েছে। হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরুর পর দাম কিছুটা কমেছিল।
আল জাজিরা বলছে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ১৬ জন নিহতের পর এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম বলছে, শুক্রবার দক্ষিণ ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে ইসরায়েলের চার সেনা নিহত হয়েছে।
লেবাননে হামলার কারণে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। যদিও হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য এখনও উন্মুক্ত রয়েছে।
এ ঘটনার প্রভাবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। সিউলের কোস্পি সূচক লেনদেন শুরুর পরপরই ২ দশমিকি ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায়। কিন্তু পরে ১ দশমিক ৮ শতাংশ পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এটি ০ দশমিক ৮ শতাংশ লাভ নিয়ে লেনদেন শেষ করে।
অন্যদিকে টোকিওর নিক্কেই ২২৫ সূচক শুরুতে ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ০ দশমিক ০৮ শতাংশ লোকসানে লেনদেন শেষ হয়েছে।
সমুদ্রে জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ বলছে, বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পতাকাবাহী তিনটি সুপার ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পারস্য উপসাগরে নিজেদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেছিল তারা। হরমুজ পাড়ি দিয়ে তারা আবার তাদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছে।
শিপ ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, বৃহস্পতিবার হংকংয়ের পতাকাবাহী তেলের ট্যাঙ্কার ‘তং লিন ওয়ান’ এবং ফ্রান্সের এলএনজি ট্যাঙ্কার ‘মরাইখ’ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে।
আল জাজিরা বলছে, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও ট্রাফিক আগের তুলনায় খুবই কম রয়েছে। আগে এ নৌপথে দৈনিক ১২০ থেকে ১৩০টি জাহাজ যাতায়াত করত। বর্তমানে ৫০০-এর বেশি জাহাজ উপসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমবি
