বিজ্ঞাপন

২ মার্কের জন্য ফেল করা শিক্ষার্থীই হলেন ইসরোর বিজ্ঞানী

২ মার্কের জন্য ফেল করা শিক্ষার্থীই হলেন ইসরোর বিজ্ঞানী

মাত্র দুই নম্বরের জন্য স্নাতকের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করা সংকেত কুমার নামের এক শিক্ষার্থী ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় ( ইসরো) বিজ্ঞানী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি মেরঠের দিওয়ান পাবলিক স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। রোববার (২১ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

সংকেতের এ যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। তিনি ২০২১ সালে মাত্র ২ নম্বরের জন্য জে-ই অ্যাডভান্সড তথা স্নাতকের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অনেকে তাকে ইয়ার ড্রপ না দিয়ে অন্য কোথাও ভর্তির পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি লাগাতার অধ্যাবসায়ের ফলে নিজেকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। 

সংকেত এজন্য কোনো ধরনের কোচিং সেন্টারে ভর্তি হননি। তিনি ইউটিউব লেকচার, পুরোনো প্রশ্নপত্র সমাধান এবং নিজে নিজেই প্রস্তুতি নেন। পরের বছর তিনি জে-ই মেইন এবং অ্যাডভান্সড উভয় পরীক্ষাতেই পাস হন। এরপর তিনি তিরুবনন্তপুরমের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে’ অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হন।

আইআইএসটিতে পড়ার সময় তিনি প্রোপালশন বা অ্যারোডাইনামিক্সের বদলে ‘ভাইব্রেশনস অ্যান্ড অ্যাকোস্টিকস’ বেছে নেন। তার ব্যাচে তিনিই একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে এ বিষয়টি বেছে নিয়েছিলেন। 

পড়াশোনার মাঝেই তিনি জাপানের ‘শিনরা ইনকর্পোরেশনে’ একটি ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণা প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন। প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি তিন মাস কাজ করেছেন। এরপর আইআইএসটিতে ৮.২ সিজিপিএ পাওয়ার পর তাকে ইসরোর সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

সংকেতের প্রথম পোস্টিং মহেন্দ্রগিরির ‘ইসরো প্রোপালশন কমপ্লেক্সে’ দেওয়া হয়েছে। এ কেন্দ্রটিতে রকেট উৎক্ষেপণের আগে সিস্টেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

নিজের এ সফলতার পেছনে পরিবারকে কৃতিত্ব দিয়েছেন সংকেত। তিনি বলেন, আমার সাফল্যের কৃতিত্ব পুরো পরিবারের। তারা সবসময় আমার পাশে থেকেছে। আমি যখন এক বছর ড্রপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, তখন লোকজন অনেক নেতিবাচক কথা বলেছিল। কিন্তু আমার পরিবার আমাকে সমর্থন জুগিয়েছে। বিশেষ করে আমার ভাই আমাকে বড় ধরনের আর্থিক সহযোগিতা করেছে।

তিনি বলেন, ইসরোর ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার কথা বাবা-মাকে জানায়নি। আমি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। 

ছেলের এই সাফল্যের খবরে সংকেতের পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও আপ্লুত হয়ে পড়েছেন। তার মা সুনিতা সিং, বাবা গুলশান কুমার এবং ভাই হর্ষিত কুমার বলেন, আমরা খুবই খুশি। এটি আমাদের কাছে একটি স্বপ্নের মতো ছিল। সংকেত আমাদের সেই স্বপ্নকে পূরণ করেছে। 

তারা বলেন, অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের ওপর আস্থা রাখা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো। পরিবারের সমর্থন পেলে তারাই একদিন নিজেদের সাফল্যের গল্প লিখতে পারবে।

সংকেত ২০২১ সালে দিওয়ান পাবলিক স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে দ্বাদশ শ্রেণি পাস করেন। স্কুলের সাবেক প্রিন্সিপাল অসীম দুবে তাকে একজন অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ ও মেধাবী ছাত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ও সবসময় বলত যে জীবনে বড় কিছু করতে চায়। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ও খুব সচেতন ছিল। আমি তার এই সাফল্যে অত্যন্ত গর্বিত।

সূত্র: এনডিটিভি

এমবি