মায়ের পাশে ঘুমিয়ে থাকা ৯ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তানকে তুলে নিয়ে গিয়ে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই কিশোর মদ্যপানের পর শিশুটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ভারতের উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ নৃশংস এই ঘটনা ঘটেছে বলে রোববার রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর অভিযুক্ত ওই কিশোর বলেছে, শুক্রবার রাতে সে মদ্যপান করেছিল এবং এরপর নিজের মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি দেখার পর ঘুমন্ত ওই শিশুকে অপহরণ করে।
তদন্তকারীরা কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই কিশোরের ফোনে ৫০টিরও বেশি অশ্লীল ভিডিও এবং ১০০টিরও বেশি পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটের সার্চ হিস্ট্রি পাওয়া গেছে।
উত্তর প্রদেশের গুলারিহা থানা এলাকায় নৃশংস এই ঘটনা ঘটেছে। শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, রাত প্রায় ২টার দিকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। এরপর পুরো গ্রাম এবং আশপাশের মাঠজুড়ে হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি মাঠের টিনের চালার নিচে রক্তাক্ত এবং তীব্র যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় শিশুটিকে পাওয়া যায়।
পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধারের পর দ্রুত স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজ্যের বিআরডি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ বলেছে, চিকিৎসকদের পরীক্ষায় শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ শিশুটির বাবা-মা এবং দাদা-দাদিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগী শিশুর ১২ বছর বয়সী এক পুরুষ আত্মীয়কে সন্দেহ করেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ জানান। ১২ বছর বয়সী ওই কিশোর তিন দিন আগে চণ্ডীগড় থেকে সেখানে এসেছিল।
তদন্তকারীরা কর্মকর্তারা বলেছেন, রোববার হেফাজতে নেওয়ার পর ওই কিশোর প্রথমে অসংলগ্ন কথাবার্তা বললেও পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। পুলিশ সুপার নিমেষ পাতিল বলেছেন, শিশুটির চিকিৎসা চলছে এবং এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি।
এসএস
