বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেছে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী তালেবানের একটি প্রতিনিধিদল। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনায় তালেবানকে বৈধতা দেওয়ার প্রয়াস হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তবে আফগানিস্তানের ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ হিসেবে এই বৈঠকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইইউ।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট সরকারের বিরুদ্ধে ২০ বছরের যুদ্ধ শেষে পাঁচ বছর আগে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে। তখন থেকে ইইউ এবং এর সদস্য দেশগুলো তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত ছিল।
তবে ব্রাসেলস আফগানিস্তানের ‘ডি ফ্যাক্টো কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গে সীমিত আলোচনার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। অপরাধে জড়িত বা বিপজ্জনক বলে বিবেচিত ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর জন্য এটি প্রয়োজন বলে মনে করছে ইইউ।
ইইউর নির্বাহী সংস্থা ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, মঙ্গলবার কমিশন এবং ১৫টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ব্রাসেলসের এই বৈঠকে অংশ নেন। এটি গত জানুয়ারিতে কাবুলে অনুষ্ঠিত আগের একটি বৈঠকের ধারাবাহিকতা।
কমিশনের মুখপাত্র বলেন, কমিশনের সংস্থাসমূহ এবং সুইডেন যৌথভাবে ব্রাসেলসে আফগানিস্তানের ডি ফ্যাক্টো কর্তৃপক্ষের কারিগরি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকের সভাপতিত্ব করেছে; যারা প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এই বৈঠকের অ্যাজেন্ডাকে আরও বিস্তৃত বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এর মধ্যে ইইউতে সম্ভাব্য কনস্যুলার উপস্থিতি, সেখানে অবস্থানরত আফগানদের জন্য কনস্যুলার সেবা পুনরায় চালু এবং আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বালখি বলেন, এই বৈঠক বিদেশে বসবাসকারী আফগানদের কনস্যুলার অধিকার রক্ষায় ইতিবাচক গতিশীলতা তৈরির আশা জাগিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, এই আলোচনার মূল ফোকাস থাকবে ইইউতে থাকার অধিকার হারানো আফগান নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্বাসনের ওপর।
আফগান তালেবান প্রতিনিধি দলের এই সফর মানবাধিকার সংগঠন এবং বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় রাজনীতিকের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। তারা বলছেন, এ ধরনের সংশ্লিষ্টতা আফগানদের ঝুঁকিতে ফেলতে এবং ইইউর মূল নীতিগুলোকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
জার্মানির পার্লামেন্ট সদস্য এবং আফগানিস্তানের সাবেক আইনপ্রণেতাদের সমর্থিত এক বিবৃতিতে গ্রিন পার্টির ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা হান্না নিউম্যান বলেন, প্রতিটি আমন্ত্রণ, প্রতিটি ভিসা এবং প্রতিটি অফিসিয়াল বৈঠক একটি রাজনৈতিক সংকেত পাঠায়। তালেবানরা কারিগরি আলোচনা চাইছে না, তারা বৈধতা চাইছে।
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আফগান প্রতিনিধিদের কেবল এক দিনের জন্য দেশে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে ভিসা ইস্যু করেছিল। একই সঙ্গে ইইউর শেনজেন জোনে স্বাভাবিক মুক্ত চলাচলের অনুমতি না দিয়ে তাদের উপস্থিতি শুধু বেলজিয়ামের মাটিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তালেবানরা ক্রমাগত মানবাধিকার খর্ব করে চলেছে। নারীদের চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধ এবং নৈতিকতা আইন কার্যকর করেছে; যা মুক্ত মতপ্রকাশ ও কর্মসংস্থানে প্রবেশাধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সূত্র: রয়টার্স।
এসএস
