বিজ্ঞাপন

হরমুজ থেকে ইরানের টোল আদায় মেনে নেওয়া হবে না : রুবিও

হরমুজ থেকে ইরানের টোল আদায় মেনে নেওয়া হবে না : রুবিও

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ইরানের টোল বা কর আদায় যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। গতকাল মঙ্গলবার এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছেন তিনি।

এক সরকারি সফরে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে গিয়েছেন রুবিও। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তাকে হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের টোল আদায় নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা।

জবাবে রুবিও বলেন, “আমরা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ কখনও মেনে নেবো না। এটা একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের জন্য অপর কোনো দেশকে টোল দিতে বাধ্য নয়। আমার বিশ্বাস, মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশও এ কথার সঙ্গে একমত হবে।”

সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে গতকাল তেহরানে ফেরার পথে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আর কখনও যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না এবং যেসব বিদেশি বাণিজ্য জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করবে, সেসব জাহাজকে অবশ্যই ইরানের সরকারকে টোল দিতে হবে।

ঘালিবাফ এ কথা বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার প্রতিক্রিয়া জানালেন মার্কো রুবিও। এর আগেও হরমুজ থেকে ইরানের টোল আদায়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে চলচলকারী জাহাজগুলো থেকে কেউ কোনো টোল আদায় করত না; কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে অবরোধ জারি করে ইরান এবং বিদেশি জাহাজ থেকে টোল আদায় করা শুরু করে। হরমুজে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে কত পরিমাণ টোল আদায় করা যাবে— এ ইস্যুতে গত মার্চ মাসে আইনও পাস করেছে ইরানের পার্লামেন্ট।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সে সময় এর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন এবং হরমুজ থেকে টোল আদায়ের জন্য ‘শাস্তি’ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করেছিলেন।

গত ১৮ জুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানি বন্দরগুলো থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানওে হরমুজ থেকে অবরোধ তুলে নেয়। গত কয়েক দিনে হরমুজে জাহাজ চলাচলও বেড়েছে।

তবে এখনও হরমুজে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ইরান টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র : এএফপি

এসএমডব্লিউ

বিজ্ঞাপন