১৯৬৭ সালে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায়। ২ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন সেই ভূমিকম্পে, আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ২ হাজার।
এতদিন পর্যন্ত এটিই ছিল ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পের রেকর্ড। তবে গতকাল বুধবার ৫৯ বছরের সেই রেকর্ড মুছে দিয়েছে ৭ মাত্রার চেয়েও শক্তিশালী দুই জোড়া ভূমিকম্প। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪মিনিটের দিকে মাত্র ৪০ সেকেন্ড সময়ের ব্যবধানে দেশটির উত্তর উপকূলের কাছে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুই ভূমিকম্প আঘাত হানে।
ব্যাপক শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের আঘাতে বিধ্বস্ত অবস্থায় পৌঁছেছে ভেনেজুয়েলা। রাজধানী কারাকাস ও অন্যান্য শহর-গ্রামে বহুসংখ্যক ভবন ও বাড়িঘর ইতোমধ্যে ধসে গেছে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধসে পড়ার ঝুঁকিতে আছে আরও হাজার হাজার বাড়িঘর ও ভবন। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আপাতত ভবনের বাইরে অবস্থানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কারাকাসের বাসিন্দা ম্যানুয়েল গ্যেভারা বারো ১৯৬৭ সালের ভূমিকম্প দেখেছেন। বুধবারের ভূমিকম্পের পর সিএনএনকে তিনি বলেছেন, “আমি আমার জীবনে এত বিধ্বংসী কিছু দেখিনি। ১৯৬৭ সালের ভূমিকম্পের সময় আমি ছোট ছিলাম, সে সময় অনেক হতাহত দেখেছি; কিন্তু আজ যে ভূমিকম্প হলো, তার তুলনায় সেটি প্রায় কিছুই নয়।”
ভূমিকম্পের কিছু সময় পর টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। ভূমিকম্পে বহুসংখ্যক হতাহত হয়েছে বলেও ভাষণে বলেছেন তিনি, কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কোনো সংখ্যা তিনি উল্লেখ করেননি। ইতোমধ্যে দেশটির স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিমাবন্দর বন্ধ করা হয়েছে।
বুধবার ছিল দেশটিতে সরকারি ছুটির দিন। স্পেনের এক সময়ের উপনিবেশ ভেনেজুয়েলায় প্রতি বছরের ২৪ জুনে সেইন্ট জন ব্যাপটিস্টের জন্মদিবস এবং জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। ছুটি থাকায় এ দিনে অধিকাংশ লোকজন নিজেদের কিংবা বন্ধু-স্বজনদের বাড়িতে সময় কাটায়।
ম্যানুয়েল গ্যেভারা বারো জানান, তিনি কারাকাসের লস পালোস গ্রান্দেস এলাকায় একটি বহুতল ভবনের ৯ তলায় থাকেন। সিএনএনকে তিনি বলেন, “কম্পনের মাত্রা এত তীব্র ছিল যে হাঁটতে পারছিলাম না। কোনো রকমে জুতা পরে বাইরে বেরিয়ে দেখি লিফট বন্ধ, কারণ বিদ্যুৎ নেই। সিঁড়ি দিয়ে নামছিলাম আমরা সবাই এবং সে সময় অনেকে ভয়ে চিৎাকর করছিল, কাঁদছিল, অনেকে অজ্ঞানও হয়ে পড়েছিল। এটা সত্যিই খুব ভয়াবহ, আতঙ্কজনক একটা ঘটনা ছিল।”
সূত্র : সিএনএন
এসএমডব্লিউ
