ভূমিকম্বে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলাকে ‘মহান বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, “ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প নিয়ে এ পর্যন্ত যেসব তথ্য আমরা পেয়েছি, তাতে এটা স্পষ্ট যে সেখানকার পরিস্থিতি ভালো নয়। এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে সব ধরনের সাহায্য- সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম। আমি আমাদের সব সরকারি সংস্থাকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী দিয়েছি। আমরা আমাদের নতুন এবং মহান বন্ধুদের পাশে থাকব।”
যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্দাও-ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, “আমরা ভেনেজুয়েলার সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং সহায়তা কার্যক্রম সংগঠিত করছি।”
ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের সার্বিক পরিস্থিতি দূতাবাসের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে দিকে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। দুই ভূমিকম্পের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড ছিল বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে বা ইউএসজিএস।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে ভেনিজুয়েলা জুড়ে ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, যার মধ্যে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারও রয়েছে। সেখানে একটি পাহাড়ের ঢালে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত বাসিন্দারা তাদের প্রিয়জন ও পোষা প্রাণীসহ ভবনগুলো থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন।
রাজধানী কারাকাসে বিভিন্ন ভবন ও বাড়িঘরের ধ্বংস্তূপ থেকে ইতোমধ্যে ৩২ জনের মরদেহ এবং ৭ শতাধিক মানুষকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন সেনা-পুলিশ এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেল্লো রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশনে প্রদান করা এক বক্তব্যে বলেছেন, “আমাদের অনেক ভবন, বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ও বেসামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে যা কিছু আছে, সেসব দিয়েই আমরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি।”
সূত্র : সিএনএন
এসএমডব্লিউ
