ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাসপোর্ট মূলত একটি ভ্রমণ-সংক্রান্ত নথি। এটিকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সীমান্তে পুশ ইন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্ট ব্যবহার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট ভারতীয় নাগরিকদেরই প্রদান করা হয়, তবে এই নথির প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিশ্চিত করা এবং বিদেশে পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা।
ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-সুবিধা ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা ২৭টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ পান। এ ছাড়া ৪৭টি দেশে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল তথা তাৎক্ষণিক ভিসা এবং ৬৬টি দেশ ইলেকট্রনিক ভিসার সুবিধা দিচ্ছে।
কর্মকর্তারা বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া উন্নত করতে ‘ই-মাইগ্রেট ২.০’ প্ল্যাটফর্মকে আরও আধুনিক করা হয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে প্রায় ৭ লাখ শ্রমিক এই পোর্টালের মাধ্যমে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
সরকার শ্রমিকদের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য এখন দেশভিত্তিক এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে আগামী সপ্তাহে একটি বড় ধরনের হিউম্যান রিসোর্স মোবিলিটি ফোরামের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে জার্মানি, ইতালি, জাপান, রাশিয়া এবং ডেনমার্ক অংশগ্রহণ করবে। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দক্ষ কর্মীদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
ভারতের অসহায় প্রবাসীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সিঙ্গাপুরে ভারতীয় নারীদের জন্য আইনি সহায়তা ও মানসিক পরামর্শসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘ওয়ান-স্টপ সাপোর্ট সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার ফান্ডের’ মাধ্যমে তারা এসব সেবা পেয়ে আসছেন।
কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো পাসপোর্টকে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ভ্রমণ-নথিতে পরিণত করা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিবাসন আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং কর্মীবান্ধব হয়ে উঠবে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমবি
