দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ সীমান্তকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শুক্রবার (২৬ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন গত বৃহস্পতিবার এসব অস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি দেশটিকে সর্বাত্মক ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।
শুক্রবার সিউল জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার এমন পদক্ষেপের জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া ‘ড্রোন যোদ্ধা’ বাহিনী গঠন করছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শত্রুদের সবসময় অস্বস্তি ও ভয়ের মধ্যে রাখতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে কিম তার বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তার মতে, এটি যুদ্ধ প্রতিরোধের অন্যতম কৌশল। এর ফলে শত্রুরা আক্রমণের দুঃসাহস করবে না।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, পরীক্ষা চালানো অস্ত্রগুলোর মধ্যে ‘বিশেষ মিশন’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড, দূরপাল্লার একটি আধুনিক রকেট লঞ্চার এবং একটি স্বয়ংক্রিয় কামান রয়েছে।
কেসিএনএ বলেছে, এই ওয়ারহেডের লক্ষ্য হলো শত্রুর বিমানঘাঁটি, বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রাণঘাতী আঘাত হানা।
কিম বলেন, পিয়ংইয়ং তাদের অস্ত্র কর্মসূচির নিখুঁততা ও কার্যক্ষমতার পরিধি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষিণ সীমান্তে গোলাবর্ষণ বা আক্রমণ পরিচালনার সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটিতে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা থমকে যাওয়ার পর থেকেই পিয়ংইয়ং সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কিম জানান, নৌবাহিনীর বহরে পারমাণবিক অস্ত্র এবং বড় যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করা হবে। এসব অস্ত্র দেশকে ‘বহুমুখী ও কার্যকর’ অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রাখবে।
উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতা জোরদারের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও জোরালো সমর্থনের আশা করছে।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং বলেন, উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়ার সময় এসেছে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।
শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির জবাবে তারা ড্রোনের সংখ্যা ও কার্যপাল্লা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেন, সামরিক বাহিনী ৫ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করছে। এসব সেনা ড্রোনকে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের মতো ব্যবহার করতে পারবেন।
সূত্র: আল জাজিরা
এমবি
