মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ডিজিটাল পরিষেবা কর আরোপকারী যে কোনও দেশের সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ৪ জুলাইয়ের সময়সীমা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো পূরণ করার মাত্র একদিন পরই শুক্রবার এই হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই হুমকির পর আটলান্টিক পাড়ের বাণিজ্য উত্তেজনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ মার্কিন বিভিন্ন কোম্পানির ওপর ডিজিটাল পরিষেবা কর কার্যকরের বিষয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে কিছু দেশ এটি বাস্তবে রূপ দেওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘কোনও দেশ যদি এই ধরনের কর আরোপ করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো তাদের যে কোনও এবং সমস্ত পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে।’’
ট্রাম্প বলেন, এই নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকা যে কোনও বাণিজ্য চুক্তিকে বাতিল বা অকার্যকর করবে; সেই চুক্তি কার্যকর থাকুক বা স্বাক্ষরিত হোক কিংবা না হোক।
এর মধ্যে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউয়ের মাঝে স্বাক্ষরিত চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ওই চুক্তির আওতায় ইইউ দেশগুলো মার্কিন শিল্প পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে শূন্যে নামানোর বিনিময়ে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে এই চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে গাড়িসহ ইউরোপ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর পুনরায় ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর ইইউয়ের আইনপ্রণেতারা আগামী ৪ জুলাইয়ের মধ্যে চুক্তির এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পূরণের জন্য তাড়াহুড়ো শুরু করেন।
বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে গত সপ্তাহে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, ট্রাম্পের চাপের কাছে মাথা নত করবে না ফ্রান্স। এমনকি মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরোপিত ডিজিটাল করও বাতিল করা হবে না। এই ডিজিটাল পরিষেবার করের আওতার মধ্যে অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং বিজ্ঞাপন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফ্রান্সে ওই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, প্যারিস যদি তাদের ডিজিটাল কর প্রত্যাহার না করে, তাহলে ফরাসি মদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর কোনও বিকল্প থাকবে না।
২০১৯ সাল থেকে ফ্রান্সে এমন সব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল পরিষেবা থেকে অর্জিত আয়ের ওপর ৩ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে; যাদের ফ্রান্সে বার্ষিক আয় ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো এবং বিশ্বব্যাপী আয় ৭৫ কোটি ইউরোর বেশি। ফরাসি আইনপ্রণেতারা গত বছর এই কর দ্বিগুণ করে ৬ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্স, ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া, স্পেন এবং অন্যান্য ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশকে ডিজিটাল পরিষেবা কর আরোপের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক শুল্কের হুমকি দিয়ে আসছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর)। ইউএসটিআর বলেছে, এসব কর বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের শামিল।
সূত্র: রয়টার্স।
এসএস
