প্রতিনিয়ত সড়কে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। এসব যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া এখন পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠেছে। গবেষণা বলছে, সড়কে পরিবহনের বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় পাঁচজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হচ্ছে। সোমবার (২৯ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত সড়ক পরিবহন মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। শুধু ২০২৪ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে যানবাহনজনিত বায়ুদূষণের কারণে ৪১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া নিউইয়র্ক সিটি পরিবেশগত ন্যায়বিচার জোটের পরিবহন পরিকল্পনাবিদ পন জোন্স বলেন, পরিবহন থেকে নির্গত ধোঁয়া মানুষের বসবাস, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর প্রতিদিনই ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।
জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন নাগরিক পরিবেশে থাকা বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছেন।
ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক লিংঝি জিন বলেন, মার্কিন নাগরিকদের স্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থের প্রভাবের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যানবাহনজনিত দূষণের কারণে মৃত্যুহার ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতাকে উপেক্ষা করতে পারে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, যানবাহনের দূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের মধ্যে নতুন হাঁপানি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী যানবাহনজনিত দূষণের কারণে হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়া প্রতি ১০ জন নতুন শিশুর মধ্যে একজন ছিল মার্কিন নাগরিক।
গবেষকেরা বলছেন, শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী যানবাহনে দ্রুত রূপান্তর ঘটাতে পারলে নীতিনির্ধারকেরা এই ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক গাড়ি, ট্রাক ও বাসের শতভাগ বাজার নিশ্চিত করা গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে এক লাখেরও বেশি অকালমৃত্যু এড়ানো সম্ভব হবে। একই সময়ে ৪২ হাজারের বেশি শিশুর হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়াও প্রতিরোধ করা যাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশটি ভুল পথে এগোচ্ছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি সংকুচিত করছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনাগুলোও বাতিল করছে।
গত বছর আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে বিপজ্জনক মাত্রার দূষিত বায়ু গ্রহণ করেন। আগের বছরের তুলনায় ওই বছরে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এমবি
