ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযান সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটিতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস্তুপের নিচে আটকা পড়াদের জীবিত উদ্ধার হওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় আবারও আফটারশক অনুভূত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সোমবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাসের উত্তরে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জাতীয় পরিষদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ বলেন, আফটারশকের প্রভাবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আফটারশকের প্রভাবে মাঝারি মাত্রার কম্পনে ভোরে অনেকেই ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। এ সময় তাঁদের ঘরবাড়িও কেঁপে ওঠে।
এদিকে, গত সপ্তাহের শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকারী দল টানা চতুর্থ দিনের মতো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের পর চার দিনে রাজধানী কারাকাস ও লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন শহরের ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপে আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আজ (রোববার) ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মরদেহ যেমন উদ্ধার করা হয়েছে, তেমনি জীবিত ব্যক্তিদেরও উদ্ধার করা হচ্ছে। আমাদের অভিযান শিগগিরই শেষ হচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপের নিচে আমাদের স্বজনরা এখনও জীবিত রয়েছেন বলে আমরা আশা করছি।
২৪ জুন বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
বুধবারের এই ভূমিকম্পকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ, বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জোড়া ভূমিকম্পে দেশটির অসংখ্য ভবন ও বাসাবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, এতে মোট নিহতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমবি
