বিজ্ঞাপন

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কারা থাকবেন, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কারা থাকবেন, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

উত্তেজনার মধ্যে আবারও আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামীকাল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূতেরা অংশ নেবেন। সোমবার (২৯ জুন) হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেভিট জানান, সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে এ সপ্তাহে দোহায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশ নেবেন। বৈঠকে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি কারিগরি পর্যায়ের আলোচনাও হবে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই বৈঠকের ঘোষণা দেন। অন্যদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, কাতারে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, দুদিন ধরে পরস্পরকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলার পর অবশেষে সহিংসতা বন্ধ করে আবারও আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

সূত্র জানিয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। উভয় পক্ষই বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচলে কোনো বাধা নেই।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের নৌবাহিনী হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রের ডিপো এবং রাডার ব্যবস্থায় পাল্টা হামলা চালায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।

এরপর প্রায় দুদিন ধরে পরস্পরকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালায় সেন্টকম এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সেন্টকমের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল আইআরজিসি।

তবে ইরানের হামলায় এ দুই দেশের মার্কিন ঘাঁটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। কুয়েত ও বাহরাইনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ২৭ জুন ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির মাধ্যমে আইআরজিসি এক বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, গত ২৫ জুন ইরানে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর জন্য মার্কিন বাহিনীকে মূল্য দিতে হবে। সামনের দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে নরক নেমে আসবে।

সূত্র: আল জাজিরা 

এমবি