বিজ্ঞাপন

দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তির পথ: এরদোয়ান

দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তির পথ: এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মূল কারণ হলো ফিলিস্তিন ইস্যু। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার (২৯ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এরদোয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান ভূমি দখল ও বসতি স্থাপন বন্ধ না হলে আমাদের অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমানে ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কারণ ন্যাটোর পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে যুদ্ধ, সংকট, সন্ত্রাসবাদ এবং অনিয়মিত অভিবাসনের কারণে জোটটিকে তার নিরাপত্তা কৌশল পুনর্গঠন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পুরোনো রীতি ও ধারণাগুলো একে একে ভেঙে পড়ছে। কিন্তু সেগুলোর পরিবর্তে নতুন কৌশল কী আসছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্ব ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এরদোয়ান বলেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও রাজনীতিকে ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত প্রচলিত সংজ্ঞাগুলো আজকের বিশ্বে অনেকাংশে তাদের অর্থ হারিয়েছে। বিশেষ করে গাজা ও লেবাননে সাম্প্রতিক গণহত্যা মানবতার বিবেককে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাকেও ক্ষুণ্ন করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা এবং মিত্রদের মধ্যে সংহতি জোরদার করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি টেক্সাস থেকে আঙ্কারা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিঃশর্ত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি যেন একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তুরস্ক পাকিস্তান, কাতার এবং অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে। তুরস্ক সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ওপর, বিশেষ করে লেবাননে সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলোর বিষয়ে নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।

এরদোয়ান বলেন, গণহত্যাকারী গোষ্ঠীর উসকানিকে যেন কোনো সুযোগ না দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা আপনাদের সমর্থন প্রত্যাশা করছি। এই গোষ্ঠী আমাদের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সহ্য করতে পারে না। এমনকি তারা এটিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হিসেবে দেখে।

সূত্র: আল জাজিরা

এমবি