অবৈধ অভিবাসনের জোয়ার নিয়ন্ত্রণ করতে আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর ফি নির্ধারণ করেছে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন ব্রিটিশ সরকার গ্রহণ করবে, তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার ৮৪৪ টাকা) ফি হিসেবে প্রদান করতে হবে।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন এ তথ্য। তিনি বলেছেন, আশ্রয়প্রার্থীর বাসস্থান ও জীবনধারণের জন্য মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ খাতে ব্যয় করা হবে এই অর্থ।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে ব্রিটেনের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ইস্যু অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ। জনমত জরিপগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে এ ইস্যুতে ব্রিটেনের জনগণ কী পরিমাণ উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে গত ১০ বছরে দেশটিতে যতো সরকার গঠিত হয়েছে, প্রতিটিই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় গিয়েছে এবং সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র থেকে শুরু করে সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার পর্যন্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ব্রিটেনের সরকার, কিন্তু সেসব সফল হয়নি এবং অবৈধ অভিবসন দিন দিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে জনগণের ক্ষোভও। ব্রিটেনের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিবাসীদের প্রতি ঘৃণাপূর্ণ মনোভাব ও অপরাধও ক্রমবর্ধমান।
যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ইস্যু এখন এতটাই প্রকট হয়ে উঠেছে যে সরকার অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনও ঠেকাতে চাইছে সরকার। আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর এই পরিমাণ ফি চাপানোর কারণও এটাই।
আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর ফি আরোপের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। গতকাল সোমবার রাজধানী লন্ডনে মন্ত্রণালয়কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে শাবানা বলেছেন, “আশ্রয় সহায়তা পাওয়া একটি অধিকার তবে একইসঙ্গে এটি দায়িত্বও বটে। আমরা নাগরিকদের ওপর করের বোঝা আর বাড়াতে চাই না। যারা ব্রিটেনের জনগণের উদারতার প্রতিদান দিতে প্রস্তুত, তারাই এ দেশে আশ্রয় পাবেন।”
সংবাদ সম্মেলনে শাবানা আরও জানান, এই ফি শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর প্রযোজ্য হবে।
সূত্র : রয়টার্স
এসএমডব্লিউ
