ভারতে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ‘পুশ ইন’। সীমান্তে একের পর এক বাসিন্দাকে জড়ো করে তাদের বাংলাদেশি দাবি করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠছে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কার) নীতি গ্রহণ করেছে। এতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
দেশটিতে বর্তমানে অনেক বাসিন্দাকেই নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমনই এক আবেদনকারী নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ১৬টি সরকারি নথি জমা দিলেও গৌহাটি হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
হাইকোর্ট বলেছেন, এতগুলো নথি দাখিল করলেও সেগুলোর মাধ্যমে প্রমাণ হয় না যে আবেদনকারী ভারতীয় নাগরিক।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মামলায় দাখিল করা ১৬টি নথি ১৯৪৬ সালের বিদেশি আইন অনুসারে আবেদনকারীকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে সহায়তা করে না।
আদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নাগরিকত্ব প্রমাণের দায়ভার সেই ব্যক্তির ওপরই বর্তায়। গত ৩০ জুন বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি শামীমা জাহানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারী ১৬টি নথি দাখিল করলেও সেগুলো দিয়ে তিনি যে বিদেশি নন, বরং ভারতীয় নাগরিক এমনটি প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।
এই আবেদনটি ২০১৯ সালের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা হয়েছিল। ওই আদেশে আমিনুল হক নামের এক ব্যক্তিকে বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি আবেদনের সঙ্গে ১৯৫১ সালের জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) অনুলিপি জমা দিয়েছিলেন।
এনআরসিতে তার দাদা-দাদি ও বাবার নাম রয়েছে। এছাড়া তিনি ১৯৬৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তার বাবা-মা ও নিজের নাম-সম্বলিত ভোটার তালিকার সত্যায়িত অনুলিপি, ১৯৭৩ সালের জমি ক্রয়ের দলিল, একটি স্থায়ী অ্যাকাউন্ট নম্বর (প্যান), ভোটার পরিচয়পত্র এবং একটি স্কুলের সনদও জমা দেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, আসামের এনআরসি ২০১৯ সালে সম্পন্ন হলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এর মাধ্যমে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক ও অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করার কথা ছিল।
আমিনুলের দাবি, তিনি বংশপরম্পরায় আসামে বসবাস করে আসছেন। তার পূর্বপুরুষরাও এ অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন।
আমিনুলের বাবা আদালতে হাজির হয়ে তাকে নিজের ছেলে হিসেবে শনাক্ত করেন। কিন্তু আদালত রায়ে বলেন, দালিলিক প্রমাণ ছাড়া শুধু মৌখিক সাক্ষ্য বাবা-ছেলের সম্পর্ক প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসামের কামরূপের একটি বিদেশি ট্রাইব্যুনাল আমিনুলকে বিদেশি ঘোষণা করে। পরে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন।
আমিনুলের আইনজীবী বলেন, আবেদনকারী একজন অভিবাসী শ্রমিক ছিলেন। তবে কিছু নথিতে তার বাবা ও দাদার নামের অসঙ্গতির কারণে তাকে বিদেশি ঘোষণা করা হয়।
আদালত আরও বলেন, আবেদনকারী হাশদোবা আঞ্চলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি স্কুল সনদ দাখিল করেছেন। এতে দাবি করা হয়েছে, তিনি ১৯৯৯ সালে বিদ্যালয় ছেড়েছেন। কিন্তু সনদটি যিনি ইস্যু করেছেন, তিনি এর সমর্থনে কোনো সাক্ষ্য দেননি।
সূত্র: এনডিটিভি
এমবি
