ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শ্রদ্ধা জানানোর সময় তারা আবেগাপ্লুত হয়ে অঝোরে কেঁদেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কান্নার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট ফারস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সপ্তাহব্যাপী দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার তেহরানে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান বলেন, শহীদ নেতার বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। আগামীকাল ঠিক সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার দরজা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এর আগে কোনোভাবেই তা খোলা হবে না। লোকজনকে এই সময় অনুযায়ী সেখানে আসার পরিকল্পনা করতে হবে।
— Raz Zimmt (@RZimmt) July 3, 2026
প্রেস টিভি জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাষ্ট্রপ্রধান, বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত শীর্ষ ইরানি নেতাদের মধ্যে ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই এবং এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানি।
প্রেস টিভি জানিয়েছে, বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন তুর্কমেনিস্তানের পিপলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান গুরবানগুলি বেরদিমুহামেদোভ, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনির।
এ ছাড়া ইরাক, আজারবাইজান, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান, বেলারুশ ও কিরগিজস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার, নিকারাগুয়া, কঙ্গো ও বুরকিনা ফাসোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মিশরের সিনেটের সভাপতি, ফিলিস্তিনি ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের মহাসচিব এবং ওমানের পার্লামেন্টের স্পিকারও উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাংহাই সহযোগিতা পরিষদের মহাসচিব নুরলান ইয়েরমেকবায়েভ, ডি-৮ অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) উপমহাসচিব, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল খেরেইজি, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদল।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আসছে। অন্তত আটজন সরকারপ্রধান এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার এতে অংশ নেবেন। এ ছাড়া অন্যান্য অনেক দেশ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী বা বিশেষ দূত পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করা হবে।
তিনি বলেন, প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো থেকে সরকারি প্রতিনিধিদল, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সংসদ সদস্যরা দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
বাকাই বলেন, ইউরোপের যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেছিল, সেসব দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি
এমবি
