যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তির পরও হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। শনিবার (৪ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় সামরিক বাহিনী পাঠাতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। দেশ দুটির পক্ষ থেকে এমন বার্তা আসার পর শনিবার হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে তাদের সতর্ক করেছে ইরান।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী বলেন, একটি দায়িত্বশীল শক্তি এবং প্রণালির নিরাপত্তার নিশ্চয়তাকারী হিসেবে ইরান এই নৌপথে যেকোনো সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক করছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল।
পোস্টের সঙ্গে গরিবাবাদী একটি স্ক্রিনশট যুক্ত করেছেন। এতে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের যৌথ তৎপরতার একটি ঘোষণা রয়েছে।
সিএনএন জানিয়েছে, উভয় দেশই প্রণালিটিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। এ জন্য গত এপ্রিলে আরও ৫১টি দেশের অংশগ্রহণে একটি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর একটি বিবৃতিরও বিরোধিতা করেছে ইরান। ওই বিবৃতিতে ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্স, ওমান ও অন্যান্য দেশ প্রণালিটি থেকে মাইন অপসারণে সহযোগিতা করবে। সে সময় গরিবাবাদী বলেন, নৌপথটি থেকে মাইন অপসারণের কাজ একমাত্র ইরানই করবে।
এদিকে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া শুরুর আগে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্ভাব্য হামলার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, যেকোনো ভুলের জবাব আগের চেয়েও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। কেউ কোনো ভুল করলে তার এমন জবাব দেওয়া হবে, যা তাদের লজ্জাজনক ইতিহাসে চিরকালের জন্য লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদ সংস্থা ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার এ মন্তব্যের পর আইআরজিসি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির দাফন প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে যেকোনো সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে ইরান। এ অনুষ্ঠানে লাখ লাখ ইরানি এবং দেশি-বিদেশি অতিথির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
খামেনির জন্য আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে ব্যাপক লোকসমাগমের আশা করা হচ্ছে। ফলে এসব স্থানে কোনো হামলা হলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হতে পারেন। অন্যদিকে, জনসমক্ষে আসা ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তারাও গুপ্তহত্যার অতিরিক্ত ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
শুক্রবার রয়টার্সের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দাফন প্রক্রিয়া শুরুর আগে তেহরানের রাস্তায় নিরাপত্তাকর্মীরা টহল দিচ্ছেন। ইরান আগামী সোমবার তেহরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
এমবি
