দখলদার ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি হচ্ছে এমন তথ্য জানার পর গত ১৫ জুন দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন দক্ষিণ লেবাননে তাদের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ হয়ে যান। কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তাদের। করা যাচ্ছিল না কোনো যোগাযোগও।
ওই ঘটনার দুই সপ্তাহ পর তিনজনের কঙ্কাল ও অলৌকিভাবে বেঁচে যাওয়া একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব আজ শনিবার (৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১৫ জুন জাওয়াদ শাহদী বাজ্জি, হাদী কামাল আল-রাক্কা, মোহাম্মদ আলি হাসান এবং আলি মুসা কাশমার দুটি মোটরসাইকেলে করে দক্ষিণ লেবাননে যান। এরপর তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ।
লেবাননি সংবাদমাধ্যম আন্নাহার জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার তাদের বিষয়টি আবারও সামনে আসে। এদিন ওয়াদি আল স্লোকিতে তিনজনের কঙ্কাল পাওয়া যায়। অপরদিকে মোহাম্মদ আলি হাসানকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তিনি বেশ আঘাতপ্রাপ্ত ছিলেন।
ওই এলাকায় এক মেষ পালক দুটি মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখেন। এরপরই সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারীরা যান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসের আলামত পান। এ সময় খোঁজাখুঁজি করতে করতে তিনজনের কঙ্কাল পাওয়া যায়। যারমধ্যে দুটি কঙ্কাল একটি আর আরেকটি কঙ্কল অপর আরেকটি মোটরসাইকেলের পাশে পাওয়া যায়।
ওই সময় সেখানে রক্তের ছোপ ছোপ দাগও দেখতে পান তারা। যেটির সূত্র ধরে একটি বাড়িতে যান উদ্ধারকারীরা। সেখানেই হাসানকে পাওয়া যায়। ওই বাড়িতে যে অল্প খাবার ও পানি ছিল সেগুলো খেয়েই দুই সপ্তাহ ধরে হাসান বেঁচে ছিলেন। আর তার শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে তা কয়েকদিন আগের।
ওই তিনটি কঙ্কালের পরিচয় নিশ্চিত হতে সেগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
সূত্র: দ্য নিউ আরব
এমটিআই
