আজ সোমবার থেকে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলন। এ সম্মেলনের ঠিক আগে, অর্থাৎ গতকাল রোববার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী।
সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎশ্চোকো। টেলিগ্রাম পোস্টে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে রোববারের হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১১ জনের মরদেহ এবং আহত অবস্থায় কমপক্ষে ৪৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত এবং আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে উল্লেখ করে টেলিগ্রামবার্তায় ক্লিৎশ্চোকা জানিয়েছেন, “ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের তলায় কেউ চাপা পড়ে আছে কি না, আমরা এখনও নিশ্চিত নই। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী বাহিনীর উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে।”
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়ার বিভিন্ন বেসমারিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সম্প্রতি একাধিকবার হামলা করেছে। সেসব হামলার জবাব দিতেই কিয়েভ এবং তার আশপাশের সামরিক, জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
রোববার ইউক্রেনের কোন কোন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে— সেসবের একটি তালিকাও দিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। স্থাপনাগুলো হলো— ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পলতাভা, চেরকাসি, চেরনিহিভ এবং কিয়েভ এলাকার সামরিক বিমানঘাঁটি, কিয়েভ এবং তার সংলগ্ন বুরেভেস্তনিকের ড্রোন এবং রাডারের উপাদান তৈরির কারখানা, ভিশনেভের একটি জ্বালানি তেলের ডিপো ও একটি জাহাজ তৈরির ইয়ার্ড। এই ডিপো এবং ইয়ার্ড ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ।
এছাড়া রোববারের হামলায় কিয়েভ এবং তার সংলগ্ন এলাকাগুলোর সাঁজোয়া যান এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এদিকে রোববার রাতে যখন রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছিল, একই সময়ে কৃষ্ণ সাগরের উপদ্বীপ ক্রিমিয়া এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরেও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছিল ইউক্রেনের বাহিনী। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল শহর বিদুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রায় একই সময়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে লেনিনগ্রাদ প্রদেশে সামরিক বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং উস্ত-লুগা ও ভাইসোতস্ক বন্দর লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় বাহিনী ৫৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছেন লেনিনগ্রাদ প্রদেশের গভর্নর আলেক্সান্দার দ্রোজদেঙ্কো। সবগুলোই অবশ্য ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার রাতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে মূলত সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে মোট ৫১৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেন। তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার এগই সেগুলো ধ্বংস করে ফেলেছে রুশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
এসএমডব্লিউ
