বিজ্ঞাপন

পেহেলগাম মামলার চার্জশিটে লস্কর-ই তৈয়বা প্রধান হাফিজ সাঈদের নাম

পেহেলগাম মামলার চার্জশিটে লস্কর-ই তৈয়বা প্রধান হাফিজ সাঈদের নাম

২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতের জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগাম উপজেলার বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় যে মামলা করেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ), সেটির চার্জশিটে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বার (এলইটি) প্রধান নেতা হাফিজ সাঈদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আজ সোমবার মামলার সম্পুরক চার্জশিট জমা দিয়েছে এনআইএ; সেই চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে হাফিজ সাঈদের নাম। এনআইএ’র এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে এএফপিকে বলেছেন, দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বা টিআরএফ নামের যে গোষ্ঠীটি পেহেলগামে হামলা চালিয়েছিল, সেটির এবং হামলার পরিকল্পনর সঙ্গে লস্করপ্রধানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল।

“টিআরএফ মূলত লস্কর-ই তৈয়বার একটি ছদ্মনাম। এই নামের আড়ালে পেহেলগামে হামলা করেছিল লস্কর। লস্কর-ই তৈয়বার শীর্ষ নেতা হিসেবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং আন ল’ফুল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট (ইউএপিএ)-এর আওতায় হাফিজ সাঈদের নাম সম্পূরক চার্জশিটে যুক্ত করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পেহেলগামের বৈসরণ উপত্যকায় হামলা চালিয়ে ২৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং একজন স্থানীয় গাইডকে হত্যা করে একদল জঙ্গি। পরে এই হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় টিআরএফ। হামলায় নিহত পর্যটকদের সবাই হিন্দু ছিলেন।

গত বছর ডিসেম্বরে এই মামলার মূল চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। সেখানে ৭ জনকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৪ জনই লস্করের সংগঠক। এরা হলেন সাজিদ জাট, ফয়সাল জাট ওরফে সুলেমান শাহ, জিবরান এবং হামজা আফগানি।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে জম্মু-কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগর, হারওয়ান এবং দাচিগামে ‘অপারেশন মহাদেব’ নামে যে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ভারতীয় সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী, সে অভিযানে নিহত হয়েছিলেন সাজিদ, ফয়সাল এবং জিবরান।

হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে এর আগেও কয়েকবার ভারতকে অভ্যন্তরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলাগুলো হলো ২০০০ সালের ২২ ডিসেম্বর দিল্লির লালকেল্লায় হামলা (২ জন সেনা এবং ৩ জন বেসামরিক নিহত হয়েছিলেন) ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি রাজস্থানের রামপুরে (আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের ৭ সদস্য এবং একজন বেসামরিক নিহত হয়েচিলেন, ২০০৮ সালের ২৬ অক্টোবর মুম্বাই হামলা (২৫ জন বিদেশিসহ ১৬৬ জন নিহত হয়েছিলেন, আহত হয়েছিলেন ২৩৫ জন এবং ২০১৫ সালে জম্মু-কাশ্মিরের উধমপুরে বিএসএফের গাড়িবহরে হামলা (৪০ বিএসএফ সদস্য নিহত হয়েছিলেন)।

এ সব মামলর আসামির তালিকাতেও আছেন হাফিজ সাঈদ।

সূত্র : ফার্স্টপোস্ট

এসএমডব্লিউ