বিজ্ঞাপন

খুলনায় মাদরাসা শিক্ষার্থীর পায়ে শিকল বেঁধে নির্যাতন, শিক্ষক গ্রেপ্তার

খুলনায় মাদরাসা শিক্ষার্থীর পায়ে শিকল বেঁধে নির্যাতন, শিক্ষক গ্রেপ্তার

খুলনার মো. মিরাজুল ইসলাম (১০) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর পায়ে শিকল বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগে মাদরাসার শিক্ষাক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) রাতে তাকে নগরীর আড়ংঘাটার থানার শলুয়া হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

শিশুটির পারিবারিক সূত্র জানায়, দিনমজুর বাবা ছেলেকে হাফেজ বানানোর আশায় স্থানীয় হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসায় ভর্তি করেন। তবে মাদরাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিন শিশুটিকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ ও গরু-ছাগল চরানোসহ বিভিন্ন কাজে বাধ্য করতেন। এতে শিশুটি আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হতো। এছাড়া কথায় কথায় তাকে বিভিন্নভাবে শাস্তি প্রদান করা হতো।

শিশুটির মা রত্না বেগম বলেন, মিরাজুল প্রায়ই মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসতো। মাদরাসায় কোনোভাবে থাকতে চায় না সে।

জানা গেছে, রত্না বেগম তার মাকে (নানী) দিয়ে ছেলেকে মাদরাসায় পাঠায় তার মালামালা আনার জন্য। কিন্তু মাদরাসা শিক্ষক তার নানীকে বুঝিয়ে মিরাজকে মাদরাসায় রেখে দেন। এরপর তারনানী চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তাকে একটি রুমের ভেতর আটক রেখে পুনরায় মারধর শুরু করেন ওই শিক্ষক। এ সময় তার পায়ে শিকল বেঁধে রেখে অপর প্রান্তে একটি মুগুর ঝুলিয়ে দেন তিনি। ঘরের বাইরে থেকে একজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে জানালা দিয়ে শিশুটিকে বাইরে বের হওয়ার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে প্রস্রাব করার কথা বলে মাদরাসার কক্ষ থেকে বের হয়ে ওই লোকের সাথে পালিয়ে মিরাজ। বাড়ি গিয়ে বিষয়টি মাকে বললে তিনি রোববার থানায় গিয়ে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাতে পুলিশ মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

আড়ংঘাটার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হালিমুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মোহাম্মদ মিলন/এমটিআই

বিজ্ঞাপন