পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ৪, ৫, ৬ ও ৭ জুলাই—চার দিনে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির সেনা-পুলিশ নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানে নিহত হয়েছেন মোট ৫৪ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং ৪২ জন সেনা-পুলিশ।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আন্তঃবিভাগ সংযোগ দপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডিতে আইএসপিআরের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বেলুচিস্তানের উরাক, মাঙ্গি, খারান, দালবান্দিন এবং লাসবেলা জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলেছে অভিযান। অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা সেনা-পুলিশ নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেছেন আইএসপিআরের মহাপরিচালক।
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, বেলুচিস্তানের এই ৫ জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে সেনা-পুলিশ নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রতিটি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের। একক অভিযান হিসেবে হতাহতের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে মাঙ্গি চেকপয়েন্ট অভিযানে। ৬ জুলাইয়ের সেই অভিযানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের। ৫৪ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন, তাদের প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ২৬ জনই নিহত হয়েছেন মাঙ্গি চেকপয়েন্টের সংঘাতে। অপরদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর ২৭ জন নিহত হয়েছেন সেই অভিযানে। এই নিহতরা সবাই বেলুচিস্তান পুলিশের সদস্য ও কর্মকর্তা।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পর থেকেই পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে শুরু হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রাম। তবে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও সেনবাহিনী বেলুচ স্বাধীনতাকামীদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর মনোভাব পোষন করার সেই সংগ্রাম এখনও সফল হয়নি। বর্তমানে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্যতম নেতৃস্থানীয় গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি বা বিএএলএ। যে ৫৪ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন, তারা সবাই বিএলএ’র সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, বেলুচ বিদ্রোহীদের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেয় ভারত। এ অভিযোগের ভিত্তিকে পাক সেনাবাহিনী বিএলএ’র নাম দিয়েছে ‘ফিৎনা আল-হিন্দুস্তান’। তবে ভারত সবসময়েই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরি বলেন, “রাষ্ট্র স্পষ্ট করে দিয়েছে ফিতনা আল হিন্দুস্তানের সঙ্গে বেলুচিস্তান বা বেলুচ জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই।”
“পাকিস্তানের মাটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই। সেনাবাহিনী পাকিস্তানের মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদের শেকড় উপড়ে ফেলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
সূত্র : জিও নিউজ
এসএমডব্লিউ
