সিরিয়ায় গত এক সপ্তাহে অন্তত তিনটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় রাজধানীজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে দেশটিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সফরকালে একটি বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দামেস্কের জাস্টিস প্যালেসের কাছে একটি ক্যাফেতে গত ২ জুলাই বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। এরপর ৭ জুলাই ফোর সিজনস হোটেলের কাছে আরও দুটি বিস্ফোরণ হয়। সে সময় সিরিয়ার রাজধানী সফরকালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন। ওই হামলায় একজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হন।
এসব হামলার পর দামেস্কের বহু বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ঘটনাগুলো রাজধানীতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সিরিয়ার সরকারের চলমান চ্যালেঞ্জগুলোকেই সামনে এনেছে।
বাসিন্দারা বলেছেন, বছরের পর বছর ধরে চলা অস্থিতিশীলতা তাদের এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে মানিয়ে নিতে অভ্যস্ত করে তুলেছে। তবে দামেস্কের প্রাণকেন্দ্রের কয়েকটি এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
চলতি সপ্তাহের এসব হামলার আগে আরব সেন্টার ফর কনটেম্পোরারি সিরিয়ান স্টাডিজের নিরাপত্তা ও সামরিকবিষয়ক গবেষক নাভভার সাবান বলেন, অনেক বাসিন্দা মনে করতেন, দামেস্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফিরছিল।
সিরিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের জন্য দায়ী আইএসআইএল (আইএসআইএস)-সংশ্লিষ্ট একটি সেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাব এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘দুই দিন আগে দামেস্ককে লক্ষ্য করে চালানো সন্ত্রাসী বোমা হামলার জন্য দায়ী সেলটি এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছে।’ তবে হামলার পর এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি।
সাবান বলেন, সংবেদনশীল সময়ে প্রতীকী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে হামলাকারীরা রাজধানীতে মানুষের নিরাপত্তাবোধ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য বৃহৎ অভিযানের সক্ষমতা প্রদর্শনের চেয়ে স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করা হতে পারে।
- নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকে সিরিয়ার সামনে নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ কয়েক গুণ বেড়েছে। দেশটির অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ অপ্রতুল এবং নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে একধরনের ভীতি বিরাজ করছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র সিরিয়া বিশ্লেষক নানার হাওয়াচ বলেন, ‘এই হামলাগুলো দামেস্কের অর্জিত অগ্রগতিকে মুছে দেয় না। তবে এগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, সেই অগ্রগতি এখনও কতটা শর্তসাপেক্ষ। কিছুদিন ধরে রাজধানীকে বাহ্যিকভাবে স্থিতিশীল মনে হলেও গোপন নেটওয়ার্ক এবং শহরের প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।’
অন্যদিকে, ‘দ্য সিরিয়া ক্যাম্পেইনের’ নির্বাহী পরিচালক রাজান রশিদি বলেন, এসব হামলা শহরের অনেক বাসিন্দার মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, ‘আদালত এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গাগুলোর কাছে যে হামলাগুলো হয়েছে, তা নিয়ে বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, এসব এলাকায় সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাগজপত্রের কাজ করতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত দামেস্কের অনেক মানুষ এ ধরনের সহিংসতার সঙ্গে বসবাস করতে অভ্যস্ত। তবে বেশিরভাগ মানুষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, কারণ তাদের আর কোনো উপায় নেই।’
সূত্র: আল জাজিরা
এমবি
