চলতি সপ্তাহে পশ্চিম তীর সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি রাইফেলধারী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতা রো খান্না আটকে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইসরায়েলি দখলের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য সরাসরি দেখার করার জন্য সেখানে সফরে গিয়ে ওই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি।
বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের এক গ্রামে ব্রিটিশ বার্তা রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে খান্না বলেন, আগের দিন দক্ষিণ পশ্চিম তীরের একটি অঞ্চল সফরের সময় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা এম-৪ রাইফেল নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হন। ওই সময় তারা খান্নাকে বহনকারী ভ্যান অবরুদ্ধ করে ফেলেন; যেখানে ওই এলাকার বাসিন্দারা নিয়মিত বসতিস্থাপনকারীদের হামলার শিকার হন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি ও প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা খান্না বলেন, ‘‘আমরা এমন এক গ্রামে ছিলাম; যা ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা ধ্বংস করে দিয়েছিল। তারা স্কুল ধ্বংস করেছে, সেই গ্রামটি ধ্বংস করেছে এবং আমরা কেবল সেটিই দেখছিলাম।’’
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘‘আর এই গুন্ডারা মেশিনগান, আমেরিকার তৈরি এম-৪ মেশিনগান নিয়ে ভেতরে আসেন এবং আমাদের আটকে রাখেন। তারা রাস্তা বন্ধ করে দেন। এরপর তারা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীকে (আইডিএফ) ডাকেন এবং আইডিএফ তাদের পক্ষ নেয়; আমেরিকানদের পক্ষ নয়।’’
খান্নার সঙ্গে থাকা তার সহকারী ক্যামেরন ক্যাসকি বলেন, ওই দিন তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছিল এবং সাহায্যের জন্য জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে আবেদন করা হয়েছিল। পরে একদল পুলিশ কর্মকর্তা এসে হস্তক্ষেপ করেন এবং তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, খিরবেত জানুতার কাছে বসতিস্থাপনকারীরা যানবাহন আটকে রেখেছে; এমন খবর পাওয়ার পর সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন।
খিরবেত জানুতা ছোট একটি ফিলিস্তিনি গ্রাম। ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর বসতিস্থাপনকারীরা সহিংস অভিযান চালিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে। ইসরায়েলি বাহিনী বলেছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সৈন্যরা ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের ছত্রভঙ্গ করে এবং যানবাহনগুলোকে গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে ইসরায়েলের পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সাড়া দেয়নি এবং জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও কোনও মন্তব্য করেনি।
সূত্র: রয়টার্স।
এসএস
