বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে ইরানের প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে ইরানের প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র

বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম শ্বাসনালী খ্যাত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার জন্য ওমানে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে শনিবার মাসকাটে পৌঁছেছেন তিনি। এদিকে, এই জলপথ দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে ইরানের কাছে প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি চায় ওয়াশিংটন।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই সপ্তাহে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। তবে শুক্রবার কিংবা শনিবার নতুন কোনও হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানে পৌঁছেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, ওমান সেই যুদ্ধ অবসানের মধ্যস্থতায় সাহায্য করছে।

সিবিএস নিউজ এবং তাদের যুক্তরাজ্যভিত্তিক অংশীদার বিবিসি বলেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার শনিবার আরাঘচির সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এছাড়া ওই আলোচনা ওমানে নাকি ভার্চ্যুয়ালি (অনলাইনে) অনুষ্ঠিত হবে, সেটিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। পরে ইরানের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান থেকে পিছু না হটা পর্যন্ত কোনও আলোচনা হবে না।

• অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের

আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। গত মঙ্গলবার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রির অনুমোদন বা লাইসেন্স বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাঘচি বলেছেন, ‌‌‘‘পাল্টা চুক্তি মেনে চলা কেবল তখনই সম্ভব, যখন উভয় পক্ষ তা মানবে।’’

গত সপ্তাহের শুরুর দিকে কাতার ও সৌদি আরবের তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলা হয়। এই হামলার জেরে ইরানের বিভিন্ন অবস্থানে আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে এর জবাব দেয়।

যদিও জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেনি ইরান। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তেহরান আলোচনায় নিজেদের সুবিধা বা দরকষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে।

মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরান মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, প্রণালিতে জাহাজে সাম্প্রতিক হামলাগুলো তাদের ব্যবস্থার একটি ত্রুটিপূর্ণ অংশের কারণে ঘটেছে। তবে এই মন্তব্য উত্তেজনা প্রশমনের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তেজনার এই আকস্মিক বৃদ্ধি সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও সংশয় তৈরি করেছে এবং তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে; যা আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের কাছে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ!’’

ট্রাম্পের এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনও অনুরোধ করেনি তেহরান। তবে কাতারি মধ্যস্থতাকারীকে স্বাগত জানাতে সম্মত হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। এই পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার কোনও পরিকল্পনা করে বা চেষ্টা চালায়, তাহলে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ১০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং তা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে তাক করা আছে। যদি ইরান সরকার বিশ্বের যেকোনও প্রান্ত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে হত্যা করার বা হত্যার চেষ্টা করার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানবে!

সূত্র: রয়টার্স।

এসএস