ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে দেশটির একটি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা। গতকাল সোমবার ঘটেছে এ হামলা।
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে গিয়েছিল হুথি বিদ্রোহীদের একটি প্রতিনিধি দল। গতকাল তাদের ফিরে আসার কথা ছিল।
কিন্তু দলটি ফেরার পথে থাকা অবস্থায় সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘটে এবং এতে বিমানবন্দরের রানওয়ে বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজটি পরে যাত্রাপথ পরিবর্তন করে হোদেইদা বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
পরে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে ক্ষমতাসীন সৌদিপন্থি ইয়েমেনি সরকার সানা বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে এবং তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা করে হুথি বিদ্রোহীরা।
সৌদিতে হামলার পর হুথি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গতকাল এক ভিডিওবার্তায় বলেন, “সৌদির অপরাধমূলক আগ্রাসনের জবাব দিতে দেশটির আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী; অভিযানে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।”
ইয়েমেনে অভিযানরত সৌদি জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি হামলার তথ্য স্বীকার করে এএফপিকে বলেছেন, “হুথি বিদ্রোহীরা কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে সেগুলোকে আটকে দিয়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।”
ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা ২০১৫ সালে সানা দখল করার পর দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আব্দ আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে আসেন। তারপর ওই ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে সৌদি কোয়ালিশন বাহিনী। বর্তমানে ইয়েমেন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চল শাসন করছে সৌদিপন্থি সরকার এবং দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে হুথি বিদ্রোহীরা।
২০২২ সালে সৌদি এবং হুথিদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি স্বাক্ষরের ৪ বছর পর প্রথম তা ভঙ্গ করে সৌদিতে হামলা চালাল হুথি বিদ্রোহীরা।
তবে ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশেদ আল আলিমি জানিয়েছেন, তিনি সৌদির সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে আগ্রহী নন।
