ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের সৌদি আরবে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশটির নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় ইসলামাবাদের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে হামলার নিন্দা জানালেও ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানাননি।
সোমবার সৌদি আরব দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে সৌদি আরব। সৌদিতে হুথিদের হামলার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বিবৃতি দিয়েছেন।
হুথিদের হামলার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে শেহবাজ শরিফ বলেছেন, ‘‘এই ধরনের নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন। এটি এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।’’
তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি ইসলামাবাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে পাকিস্তান। পাশাপাশি এই সংকটময় মুহূর্তে ভ্রাতৃপ্রতিম সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে।
শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আমরা পুরো অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখার সব ধরনের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জুগিয়ে যাব।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং এই পারস্পরিক সহযোগিতা ইসলামাবাদের আঞ্চলিক কূটনীতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এর আগে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রিয়াদে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মাঝে ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর হয়। ওই চুক্তির মূল শর্ত ছিল, যেকোনও একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা দুই দেশের ওপরই যৌথ হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
এমনকি সোমবার ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) এক জরুরি ব্রিফিংয়েও সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। সে সময় সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সব পক্ষকে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানায় ইসলামাবাদ।
সূত্র: ডন।
এসএস
