সুইডেনে অভিবাসীদের জন্য আরো কঠোর অভিবাসন আইন কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন আইন অনুযায়ী, যারা সৎ জীবনযাপন করছেন না বলে কর্তৃপক্ষ মনে করবে তাদেরকে দেশটি থেকে বহিষ্কার করা যাবে।
নতুন এই আইন রোববার (১৩ জুলাই) থেকে কার্যকর হয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একের পর এক কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। এসব পদক্ষেপে পার্লামেন্টে সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে অভিবাসনবিরোধী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস।
নতুন আইন অনুযায়ী, সুইডেনে শরণার্থী মর্যাদা অথবা সাবসিডিয়ারি প্রোটেকশন পাওয়া ব্যক্তিরা আর স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। একই নিয়ম জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে সুইডেনে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফরসেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইন ও নিয়ম মেনে চলা যেমন স্বাভাবিক বিষয়, তেমনি দায়িত্বশীলভাবে জীবনযাপন করা এবং আমাদের দেশের ক্ষতি না করাও সবার দায়িত্ব হওয়া উচিত।
সরকারের মতে, ‘জীবনযাপনে অনিয়ম’ হিসেবে শুধু অপরাধ করাই নয়, সামাজিক ভাতা জালিয়াতি, ঋণ পরিশোধ না করা, মাদকাসক্তির কারণে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, সন্ত্রাসবাদের পক্ষে প্রচারণা চালানো বা সুইডেনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ডও বিবেচনায় নেয়া হবে।
সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র লুডভিগ আসপ্লিং বলেন, কোনো ব্যক্তি কী বলছেন বা কী মত প্রকাশ করছেন, শুধু সেটিকে অসৎ আচরণের প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে না। তবে সহিংস উগ্রপন্থার সঙ্গে সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে, সেটি একজন ব্যক্তির নৈতিক আচরণ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হতে পারে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আইনটির প্রস্তাব প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এর সমালোচনা করে আসছে। স্টকহোমভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিভিল রাইটস ডিফেন্ডারস বলেছে, এর ফলে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি হবে যেখানে কিছু মানুষ এমন মত প্রকাশের জন্য শাস্তির মুখে পড়তে পারেন, যা অন্যদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বৈধ।
সংস্থাটির মতে, এটি আইনের দৃষ্টিতে সমান আচরণের নীতিকে দুর্বল করবে এবং সুইডেনের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি পরিবর্তন হবে। ইনফোমাইগ্রেন্টস।
এসএস
