পাকিস্তানের অধিকৃত আজাদ কাশ্মিরের পুঞ্চ জেলায় দেশটির নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সংঘাত হয়েছে। এতে ২ জন পুলিশ সদস্য এবং ৭ জন জা’ক কর্মী নিহত হয়েছেন।
আজ বুধবার আজাদ কাশ্মিরের রাজধানী মুজাফফরাবাদ অভিমুখে লঙমার্চের কর্মসূচি চিল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির; তার আগের দিন মঙ্গলবার পাকিস্তানের এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির পুঞ্চ জেলায় ঘটেছে এ ঘটনা।
এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালের দিকে পুঞ্চ জেলার সদরদপ্তর রাওয়ালকোটের মুতিয়ালমেরা এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেখান থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত। পরে আজাদ কাশ্মিরের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুতিয়ালমেরায় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করেছে জেএএকে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতালাভের পর জম্মু-কাশ্মিরের দু’টি অঞ্চল দখল করে পাকিস্তান— আজাদ কাশ্মির এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান। বর্তমানে উভয়েই পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দু’টিতেই প্রাদেশিক আইনসভা বা বিধানসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভায় আসনসংখ্যা ৪৫টি। সেই ৪২টি আসনের মধ্যে আবার ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।
বিধানসভায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলে দেওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে আজাদ কাশ্মিরভিত্তিক রাজনৈতিক দল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন হরতালও ডাকে জেএএকে। মূলত সেই হরতাল থেকেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রথম দফার সংঘাত হয়েছিল জেএএকে’র। সেই সংঘাতে ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন।
সেবার দাবি পূরণের জন্য পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছিলে জেএএএকে।
পুঞ্চের জেলা প্রশাসক সরদার ওয়াহিদ খান ডনকে জানিয়েছেন, অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ও পাথর ছুড়েছে জেএএকে সমর্থক ও কর্মীরা। এতে বাহিনীর বেশ কয়েক জন সদস্য আহত হয়েছেন।
পৃথক এক সংবাদ সম্মেলনে আজাদ জম্মু-কাশ্মিরের স্বরাষ্ট্র সচিব চৌধুরি গুফতার হুসেইন দাবি করেছেন, অভিযান চলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা করেছিল জেএএকে’র কর্মী-সদস্যরা; সেখান থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছে।
এদিকে মঙ্গলবারের সংঘাতের পর জেএএকে’র শীর্ষ নেতা খাজা মেহরান দাবি আদায়ের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও ২ দিন সময় দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কে চৌধুরী গুফতার হুসেইন বলেছেন, “কোনো ব্ল্যাকমেইলারের দাবি রাষ্ট্র মেনে নেবে না এবং সব ব্ল্যাকমেইলারকে লৌহকঠিন হাতে দমন করা হবে।”
সূত্র : ডন
এসএমডব্লিউ
