ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ফের হামলা করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা সেন্টকোম। রাজধানী তেহরান, উপকূলীয় অঞ্চল এবং হরমুজগান প্রদেশে হামলা করা হয়েছে।
বুধবার শেষরাতের দিকে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) পক্ষ থেকে এক বার্তায় বলা হয়েছে, “আজ ভোরের দিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ইরানের বন্দর আব্বাস এবং তুনব দ্বীপসহ অন্যান্য অঞ্চলে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংক্রান্ত স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি সংক্রান্ত স্থাপনা এসব যেসব সক্ষমতার জোরে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে ইরান হামলা করে— সেসব সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করেছে। এই হামলা সময়সীমা বা ব্যাপ্তি ছিল ৯০ মিনিট।”
বন্দর আব্বাস এবং তুনব দ্বীপ ব্যতীত ইরানের কোন কোন অঞলে হামলা পরিচালনা করা হয়েছে, তা উল্লেখ করো হয়নি সেন্টকমের বার্তায়, তবে বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় বন্দর আব্বাস এবং তুনব দ্বীপের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের পাশাপাশি পূর্ব তেহরানের সেনমান বিমানবন্দর, খোন্দাব ও কেশম দ্বীপ এবং হরমুজগান প্রদেশের সিরিক এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে মার্কিন বাহিনী।
এদিকে মার্কিন বাহিনীর এই হামলর কিছু সময় পর জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর আল আজরাক বিমান ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটির রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে ইরান।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে বিমান অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র; শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ। টানা ৪০ দিন ধরে যুদ্ধের পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দুই দেশ। তারপর এই যুদ্ধবিরতিকে আরও দীর্ঘ করতে এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ১৭ জুন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে মোট ১৪টি ধারা বা শর্ত ছিল। এসবের মধ্যে একটি ছিল— ইরান আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে।
কিন্তু চুক্তির শর্ত ভেঙ্গে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের দুই ট্যাংকার জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা করে ইরান। সেই হামলার জবাবে ৭ জুলাই ইরানে পাল্টা হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর থেকে গত ১১ জুলাই থেকে পুরোদমে হামলা-পাল্টা চলছে ইরানি ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে।
সূত্র : এএফপি, ফার্স্টপোস্ট
এসএমডব্লিউ
