বিজ্ঞাপন

সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি হুথিদের

সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি হুথিদের

ইয়েমেনে চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবের সব তেলক্ষেত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। বৃহস্পতিবার গোষ্ঠীটির প্রধান আব্দুল মালিক আল-হুথি টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই হুমকি দিয়েছেন।

এর আগে, গত সোমবার হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের একটি বিমানবন্দরে হামলা চালায় সৌদি আরব। পরে দেশটির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যকার চার বছর ধরে কার্যকর থাকা দীর্ঘ যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। ওই চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর এবার সৌদি আরবে সরাসরি নতুন করে হামলা চালানোর হুমকি দিলো হুথি।

হুথিরা এর আগেও সৌদির জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ২০১৯ সালে সৌদির দুটি প্রধান তেল স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছিল গোষ্ঠীটি। হামলার কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

পরবর্তীতে ২০২২ সালেও সৌদি আরবের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় পুনরায় আঘাত হানে হুথিরা। ওই সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বলেছিল, জেদ্দায় অবস্থিত আরামকোর একটি পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখানে আগুন ধরে গেছে।

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে হুথি প্রধান বলেছেন, ‌‌‘‘আমাদের সমীকরণ একেবারে পরিষ্কার, সানা বিমানবন্দরে হামলার জবাবে রিয়াদ বিমানবন্দর, বিমানবন্দরের বদলে বিমানবন্দর, বন্দরের বদলে বন্দর এবং অবরোধের বদলে অবরোধ।’’

হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলে নেওয়ার পর থেকে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে।

এরপর থেকে এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে এবং বর্তমানে দেশটি এডেনভিত্তিক সৌদি-সমর্থিত সরকার ও সানাভিত্তিক হুথি প্রশাসনের মাঝে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।

এসএস