সরকারবিরোধী গত জানুয়ারির বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করেছে ইরান। রোববার ইরানের বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে ওই দুই ব্যক্তি ফাঁসি কার্যকরের তথ্য জানানো হয়েছে। অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়ে ওই সময় শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশটিতে ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল।
বিবৃতিতে দেশটির বিচার বিভাগ বলেছে, এরফান এসফান্দিয়ারি এবং গোল-মোহাম্মদ মোহাম্মদি নামের ওই দুই ব্যক্তি মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান শহরে পুলিশ কর্মকর্তাদের রশি দিয়ে রাস্তার সাইনপোস্টের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, পাথর ছুড়ে তাদের আহত করা এবং শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো অপরাধ করেছিলেন তারা। এসব অপরাধের দায়ে আদালতের দীর্ঘ শুনানিতে দোষী সাব্যস্ত হন ওই দুই ব্যক্তি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই দুই ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য নিজেদের মোবাইল ফোনে ধারণ এবং সেই ফুটেজ বিদেশি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তবে বিবৃতিতে তাদের গ্রেপ্তারের তারিখ, বিচার প্রক্রিয়া কিংবা বয়সের বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানায়নি ইরানের বিচার বিভাগ।
গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের বিরুদ্ধে প্রথম শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়। পরবর্তীতে গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি চূড়ান্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় ওই বিক্ষোভ।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এই সহিংসতাকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলে পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দেয়। সরকারবিরোধী ওই আন্দোলনে দেশটিতে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়। ইরানের মানবাধিকার বিষয়ক বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিল।
সেই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে যৌথ হামলা চালায়; যা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
এরপর থেকে দেশটিতে সংঘাত এবং বছরের শুরুতে হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার বহুগুণ বেড়ে গেছে।
মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস এবং টুগেদার এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টির (ইসিপিএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানি কর্তৃপক্ষ অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে; যা ১৯৮৯ সালের পর যেকোনও এক বছরে সর্বোচ্চ ফাঁসি কার্যকরের রেকর্ড।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় চীনের পরই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরান।
সূত্র: এএফপি।
এসএস
