আফ্রিকার দেশ মালির উত্তরাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর একটি গাড়িবহরে বিদ্রোহীদের অতর্কিত হামলায় অর্ধ শতাধিক সৈন্য নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার অনুসারী ও তুয়ারেগ নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহীরা ওই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
বিদ্রোহীদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, হামলায় নিহতরা মালির সেনাবাহিনীর সদস্য ও তাদের মিত্র রাশিয়ার আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য। এ ছাড়া কয়েকজন সৈন্যকে বিদ্রোহীরা জিম্মি করেছে।
দেশটিতে ওই দুই গোষ্ঠীর হামলা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এপ্রিলে গোষ্ঠী দুটি জোটবদ্ধ হয়ে মালিজুড়ে হামলা শুরু করে। সেই সময় হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হন। রাজধানী বামাকোর বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে দেশটির আনেফিস শহর দখলের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা শুরু করে বিদ্রোহীরা।
মালির সশস্ত্র বাহিনী, আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ) এবং আল-কায়েদার অনুসারী জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিনের (জেএনআইএম) পৃথক বিবৃতি অনুযায়ী, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর আনেফিস ও গাওয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় শনিবার ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, তাবরিচাট এলাকায় পৌঁছানোর পথে অতর্কিত ওই হামলার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর পাল্টা বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী নিহত হয়।
অন্যদিকে এফএলএর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অতর্কিত হামলা চালিয়ে মালির সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার আধাসামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কোরের কয়েক ডজন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
এফএলএর বিশ্বস্ত একটি সূত্র বলেছে, নিহত সরকারপন্থী যোদ্ধার সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। যদিও নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে জেএনআইএম। এতে দেখা যায়, হামলার পর সৈন্যরা মাথার পেছনে হাত রেখে আত্মসমর্পণ করছেন এবং বিদ্রোহীরা কয়েকজনের ওপর গুলি চালাচ্ছে। তবে রয়টার্স এই ভিডিও ফুটেজের সত্যতাও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।
দেশটির সেনাবাহিনী আনেফিস শহরে এখনও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেছে। বিদ্রোহীদের হামলা ও ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ঘটনা মালির সামরিক সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে টানা দুটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সামরিক সরকার সাহেল অঞ্চলের স্থলবেষ্টিত দেশটির নিরাপত্তা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স।
এসএস
