ইরানের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার শেষ রাতের দিকে বিমান অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর একাধিক সামরিক অপারেশন কেন্দ্র, একটি এয়ারক্রাফট হ্যাংঙ্গার এবং ড্রোন ডিপোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে মার্কিন বাহিনী। আজ বুধবার ভোরের দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম।
এই নিয়ে টানা ১১ দিন ধরে প্রতিদিন ইরানের অভ্যন্তরে বিমান অভিযান পরিচালনা করছে সেন্টকম। মঙ্ঘলবারের অভিযানে লক্ষ্যবস্তু করা এই এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্কার এবং ড্রোন ডিপোর অবস্থান সম্পর্কে বিবৃতিতে কোনো তথ্য দেয়নি সেন্টকম, তবে বলেছে— এর আগের নৈশ অভিযানগুলোতে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কয়েকটি কমান্ড কেন্দ্র, সামুদ্রিক স্থাপনা, বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু স্থাপনা বিমান অভিযানের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সেই বোমাবর্ষণের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে সেন্টকমের পক্ষ থেকে।
— Rapid Report (@RapidReport2025) July 22, 2026
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের শুরু এবং টানা ৪০ দিন তা অব্যাহত থাকার পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে তেহরান এবং ওয়াশিংটন। তার দু’মাসেরও বেশি সময় পর ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভিত্তিতে ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি (ইসলামাবাদ এমওইউ) স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
১৪টি শর্ত সম্বলিত সংক্ষিপ্ত সেই চুক্তিটির একটি শর্ত ছিল— আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করবে ইরান এবং তার পরিবর্তে দেশটির তেলের ওপর জারি করা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ৫ জুলাই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে হরমুজে আমিরাতের দুই ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলা করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি। সেই হামলার জবাব দিতে ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাল লক্ষ্য করে টানা বোমাবর্ষণ শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম।
এই নতুন দফার সংঘাতের মধ্যেই গত ১৩ জুলাই সোমবার ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ জারির নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন দফার এই সংঘাতের কেন্দ্রে আছে হরমুজ প্রণালি। ইরানের কব্জা থেকে হরমুজ প্রণালিকে বের করে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র : এপি
এসএমডব্লিউ
