বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ-ইসলামি কেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর বেড়েছে ৫১ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ-ইসলামি কেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর বেড়েছে ৫১ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে গত এক বছরে মসজিদে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা বাড়ছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে মসজিদ ও মুসলিমদের উপাসনালয় লক্ষ্য করে যত হামলা-ভাঙচুর হয়েছিল, চলতি বছর একই সময় সীমায় এ ধরনের ঘটনার বেড়েছে ৫১ শতাংশেরও বেশি।

মার্কিন মুসলিমদের অধিকার সংস্থা দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স (কেয়ার) গতকাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ তিন মাস অর্থাৎ ২০২৬ সালের মে, জুন ও জুলাই মাসে মসজিদে ভাঙচুর সংক্রন্ত যত ঘটনা ঘটেছে, শতকরা হিসেবে এসব ঘটনা বৃদ্ধির হার আগের বছর ২০২৫ সালের মে, জুন ও জুলাইয়ের তুলনায় ১৮৩ শতাংশ বেশি।

কেয়ারের প্রতিবেদনে অবশ্য ভাঙচুরের পাশাপাশি মসজিদ লক্ষ্য করে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মজজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়া প্রভৃতিকেও একই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কেয়ারের গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি শাখার পরিচালক কোরি সেইলর এ প্রসঙ্গে এক বার্তায় বলেছেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামভীতি এবং ঘৃণা প্রদর্শন অনেকাংশে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে গেছে। মসজিদের পাশাপাশি অন্যান্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয়েও নিয়মিতই ভাঙচুর হয়, যদিও তা বহুলাংশে কম।”

“এই সমস্যা সমাধানে কমিউনিটি নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। ইসলামভীতি ও ঘৃণা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হতে হবে।”

মুসলিম বিদ্বেষ সংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটলে কেয়ার সাধারণত তিন মাস সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখে। তিন মাসে উত্তেজনা বাড়ল কি না— তা লক্ষ্য করাই পর্যবেক্ষণের উদ্দেশে।

কেয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ মে একদল শেতাঙ্গ কট্টরপন্থি স্যান ডিয়েগোর একটি ইসলামিক সেন্টারে আঘাত হানে। এ সময় হামলার কবল থেকে শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে নিহত হন আমিন আবদুল্লাহ, মনসুর কাজিহা এবং নাদির আওয়াদ নামের তিন ব্যক্তি।

কেয়ারের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, তাদের কাছে থাকা রেকর্ড অনুযায়ী গত বছর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে মোট ৩৩টি। এর এ বছর মে থেকে জুলাই— তিন মাসেই এ ধরনের অপরাধ ঘটেছে ১৭টি।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

এসএমডব্লিউ

বিজ্ঞাপন